পিরিয়ড কী ও সুস্থ প্রজননের জন্য পিরিয়ডের সময় কি করণীয়

Napkin
মাসিক বা পিরিয়ড কী?

নারী জীবনে পিরিয়ড একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রতিমাসের নিয়মিত পিরিয়ডই মেয়েদের গর্ভধারনে প্রস্তুত করে। মেয়েদের এসব স্পর্শকাতর বিষয়াদি তারা লুকিয়ে রাখতেই বেশি পছন্দ করে। যা একদম ঠিক না। যার ফলে হতে পারে আপনার বড় ধরনের বিপত্তি। তাই আর লজ্জা নয় স্বাস্থ ভালো রাখার্থে নিজে বেশি করে জানুন এবং অন্যকে জানানোর চেষ্টা করুন। আরো জেনে নিন অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ ও প্রতিকার।

পিরিয়ড কী ?

পিরিয়ড হলো প্রতি চন্দ্র মাসে মেয়েদের শরীরে হরমোনের প্রভাবে যোনিপথ দিয়ে। যে, জরায়ু নি:শৃত অংশ ও রক্ত বেরিয়ে আসে তাকেই মাসিক বা পিরিয়ড বলে। এই রক্ত বেরিয়া আসার সাথে সাথে শরীর থেকে দুষিত রক্ত ও বিষাক্ত পদার্থ রক্ত সংমিশ্রণে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে।

Mins or period

তাই মাসিকের সময় পেট ও কোমড় প্রচন্ড রকম ব্যাথা অনুভিত হয়। তার জন্য সবসময় অস্বস্থি বোধ হয় ও মেজাজ খিটখিটে হয়। এ সময় সবসময়ই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা অবশ্যই আবশ্যক।

যেহেতু, শুধু রক্ত নয় বিষাক্ত পদার্থ ও বের হয়ে যায় তাই সবসময়ই পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বার বার অপরিচ্ছন্নতার ফলে প্রসাব সংক্রমণ হতে পারে, যা কিডনি কে ড্যামেজ করতে পারে। তাই পিরিয়ডের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, প্রফুল্ল মন ও সেই সাথে স্যানিটারি ন্যাপকিন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।

স্যানিটারি ন্যাপকিন কি ?

এসব স্যানিটারি ন্যাপকিন হলো একটি স্বাস্থ্য সম্মত উচ্চ শোষান ক্ষমতা সম্পন্ন প্যাড। যা মেয়েদের মাসিকের রক্তপাতের সময় ঝরঝরে অনুভুতি থেকে স্বস্থিঃ দিয়ে থাকে। প্রতিবার পুড়নো ন্যাকড়া ব্যবহারের বিকল্প হিসেবে ন্যাপকিন ব্যবহৃত হয়। যা পুরা ৪-৫ ঘন্টা স্বস্থির সাথে পরিধান করা সহজ।

স্যানিটারি ন্যাপকিন

স্যানিটারি ন্যাপকিন ন্যাপকিন বা প্যাড ব্যবহারে সতর্কতা

ন্যাপকিন পাল্টানোর সময় আগে ভালো করে ২ হাত পরিষ্কার করবেন। অতঃপর, যোনিপথ ও পরিষ্কার করে ধুয়ে মুছে নিন। এরপর নতুন একটা প্যাড ফিট করে ইউজ করতে পারেন। যদি হাত না ধুঁয়ে থাকে এতে হাতে লেগে জিবাণু প্যাডে লেগে জরায়ুতে প্রবেশ করতে পারে। প্রয়োজনার্থে জিবাণুনাষক ও ব্যবহার করতে পারেন।

৫ ঘন্টার অধিক সময় প্যাড ব্যবহার নয়

একটা প্যাড ৫ ঘন্টার অধিক সময় ধরে পরিধান করা উচিত না। মাসিকের সময় ডিসর্চাজে এর ফ্লো এক সমান থাকে না । তাই মাসিকের শুরুর প্রথমে বেশি রক্ত পাত হয়। এ জন্য প্যাড বেশি পাল্টাতে হয়। তবে শেষের দিকে ফ্লো কমে গেলে ও কোন অবস্থাতেই একটা প্যাড সারা দিন ব্যবহার করবেন না।

নিয়মিত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন

যোনি পথের বাইরে ও চামড়ার ভাজে ভাজে রক্ত ও জিবাণু লেগে থাকে। তাই কয়েকবার হালকা গরম পানি দিয়ে মুছে পরিষ্কার করুন। চাইলে সাবান ও ব্যবহার করতে পারেন। সেই সাথে প্রত্যেকদিন গোসল টাও সেরে নেবেন এতে করে শরীর পরিষ্কারের পাশাপাশি পেট ও কোমড় ব্যাথা ক্লান্তি অবসাদ ও দূর হতে পারে।

ব্যবহৃত ন্যাপকিন সঠিক স্থানে ফেলুন

ব্যবহার করা ন্যাপকিন আমরা সাধারনত ডাস্টবিনে না রেখে অনেক দিন যাবৎ বাথরুমের ঝুড়িতে রেখে দেই। যার ফলে উক্ত প্যাড থেকে জীবাণু ছড়িয়ে আপনি ও আপনার পরিবার সবাই ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই যদিও বা রাখেন তাহলে অবশ্যই পলিথিন মুড়িয়ে রাখতে পারেন।

এক সঙ্গে একটির বেশি প্যাড ইউজ নয়

হেভি ফ্লো হয়ে থাকে পিরিয়ডের শুরুতে। তাই আমরা বেশি রক্ত শোষনের জন্য একসঙ্গে ২ টা প্যাড অথবা বেশি করে ন্যাকড়া ইউজ করে থাকি। যা ‍দীর্ঘ সময় ধরে রক্ত শুষে নিতে পারবে এটা ভেবে। কিন্তু এটা মারাত্তক ক্ষতিকর খালি চোখে রক্ত না দেখা গেলেও জিবাণু কিন্তু ঠিকই আপনার সংক্রোমন ঘটানোর জন্য প্রস্তুত। সুতরাং, একবার একটা প্যাডই ইউজ করবেন আর মনে রাখবেন ৫ ঘন্টার বেশি সময় ধরে নয়।

মাসিকের সময় যে ভুল গুলো করা যাবে না

এ সময় সাধারনতো একটু আধটু পেট ব্যাথা হয়েই থাকে। তার জন্য বাজারে যে পেইন কিলার ঔষধ বা ইনজেকশন পাওয়া যায় যা সাময়িক ব্যাথা কমিয়ে থাকে। এই ওষুধ ও ইনজেকশনে যে স্টরয়েড থাকে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যা পেইন কমানোর পরির্বতে স্টেরয়েডহিন এন্টি ইনফ্লামেটরি ড্রাগ শরীরে হার্ট অ্যাটার্কের ঝুকির পরিমান বাড়িয়ে দেবে। বারবার এ ধরনের ওষুধ খেলে কিডনি ও লিভার মারাত্রক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উৎকট ও বিশ্রি গন্ধ কারও পছন্দ না। তাই আমরা সাধারনত সুগন্ধ যুক্ত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে চাই। আর এই সুগন্ধি যুক্ত প্যাডে কিছু সিন্থেটিক ক্যামিক্যাল যুক্ত থাকতে পারে যা ক্যান্সার প্রবন।

প্রচুর ব্যাথা ও অস্বস্থির জন্য পিরিয়ডের সময় ইনসমনিয়া দেখা দেয় যার। ফলে পরিমিত ঘুম আসতে চায় না যা শরীর কে অসুস্থ করে দেয়। তাই ঠিকঠাক খাওয়া দাওয়া ও ঘুম হলে মাসিকের সময় কম কষ্ট ও অনেক সহজ হয়।

পিরিয়ডের সময় ক্লান্তি অবসাদ ও মাথা ব্যাথা জনিত সমস্যা থাকায় একটু চা , কফি খেতে মন চায় । যা খাওয়া ঠিক না ক্যাফেইন জাতীয় ড্রিংক শরির কে ডি-হাইড্রেট করে শরীর কে উল্টা ক্ষতি করে দিতে পারে। এ সময় এমনিতেই ঘুম আসতে চায় না তাই এগুলা বাদ দিলে টেনশন ও নিদ্রাহিনতার প্রকোপ কমে যাবে পরিমিত পরিমানে ঘুম হবে। যা স্বাস্থের জন্য ভালো।

মাসিকের সময় যোনিতে ব্যাকটেরিয়াসংক্রোমনের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই সু স্বাস্থের লক্ষে এ সময় পরস্পর সঙ্গম না করাই ভালো।
আমাদের Study Based এর পোস্টটি কেমন লাগল বন্ধুরা। আশা করি, কমেন্টস করে জানাবেন। আপনার আরো কী কী ধরণের পোস্ট পেতে চান তা অব্যশই জানাবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *