Jaflong Sylhet

Jaflong Sylhet

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে জাফলং (Jaflong Sylhet) খুবই উল্লেখযোগ্য স্থান, এটি প্রকৃতির কন্যা হিসেবে খ্যাত। বাংলাদেশের সিলেট জেলার দর্শনীয় ভ্রমণের স্থান গুলোর মধ্যে জাফলং সবার প্রিয়। ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অপরূপ সাজে সাজিয়ে আছে জাফলং। সিলেট জেলা থেকে দর্শনীয় স্থান জাফলং এর দূরত্ব প্রায় 62 কিলোমিটার। ঝুলন্ত ব্রিজ, ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি এবং উঁচু পাহাড় এর মেঘেদের খেলা জাফলং কে অপরুপ করে সাজিয়ে আছে। পর্যটন প্রেমিকেরা সারা বছরই জাফলংয়ে এসে থাকে, কারণ ঋতু বদল এর সাথে সাথে জাফলং এর রূপের ও প্রকাশ ঘটে।

কিভাবে জাফলং এ যাওয়া যাবে?

বাংলাদেশের চায়ের দেশ হিসেবে খ্যাত সিলেট জেলা, তাই জাফলং আসতে হলে ছেলেটি আসতে হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ প্রেমিরা নানান উপায় জাফলং আসতে পারে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেটে আসা গেলেও আমি সহজ করে বোঝানোর জন্য ঢাকা কেই বেছে নেব। কারন সবার পরিচিত ঢাকা শহর এবং ঢাকা থেকে খুবই সহজে জাফলং এ আসা যায়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সিলেটের বাস পাওয়া যায়। যেমনঃ গাবতলী, ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ, আব্দুল্লাহপুর ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বাস পরিবহন পাওয়া যায়।

সিলেটে যাওয়ার জন্য এসি ও নন নন এসি বাস পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্য সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, এস আলম, এনা ও শ্যামলী পরিবহন। তবে এনা পরিবহনের এসি বাস পাওয়া যায়। এসি ও নন এসি বাস গুলোর ভাড়া কিছু পরিবর্তন রয়েছে। নন এসি বাসের ভাড়া সাধারণত 400 থেকে 500 টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া 800 টাকা থেকে 500 টাকার মধ্যে হবে। ঢাকা থেকে সিলেটে যেতে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় লাগে, কারণ সিলেটের দূরত্ব প্রায় 240 কিলোমিটার। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে রাত, দুপুর, সকাল সব সময় সিলেটের বাস পাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে সিলেটে ট্রেনে যাওয়ার উপায়?

আপনার জেলা শহর থেকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন অথবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এ আসতে হবে। এখান থেকে কালনী এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন পাওয়া যায়। বাস এর থেকে ট্রেনে যেতে একটু সময় বেশি লাগে। সেক্ষেত্রে ট্রেনে করে সিলেটে যেতে প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগবে। ট্রেনের আসন ভেদে জন প্রতি ভাড়া 280 টাকা থেকে বারোশো টাকা পর্যন্ত।

অতি দ্রুত সময়ে জাফলং যেতে চাইলে আকাশ পথ চেয়ে পথকে বেছে নিতে পারেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান প্রতিদিন সিলেটের উদ্দেশ্যে সেরে যায়। ইউ এস বাংলা এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার, বিমান বাংলাদেশ, রিজেন্ট এয়ার বিমান সমূহ বিভিন্ন সময়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। বিমানগুলোর ক্লাস অনুসারে জনপ্রতি ভাড়া ও ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে সাধারণত 3 হাজার টাকা থেকে 10 হাজার টাকা মধ্যে হয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে যাবার উপায়

তাছাড়া বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য স্থান চট্টগ্রাম হতে যাওয়া যায়। চট্টগ্রামের জেলা শহর থেকে এনা পরিবহন, গ্রীন লাইন, সৌদিয়া বাস পাওয়া যায়। এসি বাস এবং নন এসি বাসের উপর ভিত্তি করে ভাড়া 500 টাকা থেকে 2000 টাকা হয়ে থাকে। তাছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন যোগেও চায়ের দেশ সিলেট এ যেতে পারবেন। এজন্য চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস এবং পাহাড়িকা ট্রেনে যেতে পারবেন। তবে ট্রেনের সিডিউল জানা খুবই জরুরী কেননা, সপ্তাহে মাত্র 6 দিন চলাচল করে। ট্রেনের ভাড়া আসন বোয়ালিটি অনুযায়ী 100 টাকা থেকে 1000 টাকা হবে।

কিভাবে সিলেট থেকে জাফলং যাওয়া যায়?

ঢাকা অথবা চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে আসার পর বিভিন্ন উপায়ে জাফলং এ আসা যায়। সিলেটের শিবগঞ্জে থেকে লোকাল বাসে মাত্র 80 টাকা ভাড়া দিয়ে জাফলং এ যেতে পারবেন। অটোরিকশায় বা সিএনজি যোগে মাত্র 1000 টাকা থেকে 2000 টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে পারবেন। কয়েকজন মিলে একটি মাইক্রোবাস 3000 টাকা থেকে 5000 টাকা দিয়ে রিজার্ভ নিয়ে জাফলং যেতে পারবেন। সিলেটের যে কোন স্ট্যান্ড থেকে এই সিএনজি অথবা অটোরিক্সা যোগে জাফলং এ যাওয়া যায়। তবে সিএনজি, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস ভাড়া নেওয়ার সময় ভালো করে দরদাম করে নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

Sajek Valley

Sajek Valley

সাজেক ভ্যালি(Sajek Valley) অতি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে অতি প্রিয় গন্তব্য স্থল সাজেক। এটি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটির জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসেবে খ্যাত। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে সাজেকের উচ্চতা 1800 ফুট উঁচু। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার হলেও এটি খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে অনেক কাছে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই সহজ।

দীঘিনালা থেকে সাজেক এর দূরত্ব মাত্র 40 কিলোমিটার এবং খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। আপনি যদি সত্যিকারে সাজেকে যেতে চান, তাহলে বাঘাইহাট থেকে আর্মি ক্যাম্প অথবা পুলিশ ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিতে হবে।

সাজেকে গিয়ে কি কি দেখতে পাওয়া যাবে?

সাজেকের(sajek valley resort) চারপাশে মনমুগ্ধকর পাহাড়ের সারি এবং সাদা তুলার মত মেঘের ভেলা আপনাকে মোহিত করবেই। সাজেক খুবই আশ্চর্যজনক স্থান তাই একই দিনে প্রাকৃতিক তিন রকম রুপের ছোঁয়ায় আপনাকে চমৎকৃত করবে। কখনো আপনার চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাবে কখনো গরম অনুভূত হবে হয়তোবা হঠাৎ হঠাৎ আপনি বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন। এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড় তুলার মত মেঘের পুরো খেলা দেখতে পারবেন।

সাজেকে ভ্রমণে আসা ভ্রমণ প্রেমিকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে কঙ্কাল পাহাড়। সাজেক ভ্যালি কংকাল পাড়া গ্রামের লুসাই জনগোষ্ঠী দ্বারা অধ্যুষিত হচ্ছে এলাকাটি। আমাদের দেশের কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের লুসাই পাহাড় টি এই কঙ্কাল পাড়া গ্রাম থেকে দেখা যায়। যদি কমলোক ঝরনা দেখতে চান তাহলে রুইলুই পাড়া থেকে আপনাকে 2 ঘণ্টার ট্রেকিং করতে হবে। অনেকের কাছে সুন্দর ঝর্ণাটি সিকাম তৈশা বা পিদাম তৈসা নামে পরিচিত।

শিল্পীর তুলিতে আঁকার মতোই সাজেক ভ্যালি আপনার কাছে দিনে অথবা রাত অপরূপ মনে হবে। সময় গড়ে যাচ্ছে তবুও সাজেক যেন দিন দিন আরো নতুন হয়ে উঠছে। সাজেকে গেলে অবশ্যই সকালের সূর্যোদয় এবং মেঘের খেলা কখনো মিস করবেন না। কারণ এই সময়টাতে মেঘের খেলা এবং সূর্য উদয় ঘটে। তাই এই খেলাটি দেখতে হলে অবশ্যই আপনাকে খুবই ভোরে উঠতে হবে এবং এর জন্য রওনা দিতে হবে হেলিপ্যাডে। কারণ এই জায়গা থেকে সূর্য উদয় খুবই সুন্দর ভাবে দেখা যায়।

যদি সূর্যাস্তের রঙ্গিন রূপ দেখতে চান তাহলে অবশ্যই সাজেকের কোন উঁচু স্থান থেকে দেখতে হবে। যদি রাতের আকাশের কথা বলি তাহলে সন্ধ্যার পর আকাশে কোটি কোটি তারার মেলা আপনাকে বিমোহিত করবে। রাতের আকাশ যদি পরিষ্কার থাকে তাহলে দেখতে পাবেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ। পাহাড়ি অঞ্চলের আদিবাসীদের যদি জীবনযাত্রার মান দেখতে চান। তাহলে আপনাকে চারপাশটা ঘুরতে হবে তাহলে আদিবাসী মানুষের সান্নিধ্য আপনাকে অনেক ভালো লাগবে। যদি হাতে আরো অনেক সময় থাকে তাহলে সাবেক থেকে ফেরার পথে আরো ঘুরে আসতে পারেন দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ দীঘিনালা বন বিহার এবং হাজাছড়া ঝর্ণা।

কখন সাজেক ভ্রমণের উপযুক্ত সময়?

বর্ণিল সাজে সারা বছরই সাজেক সাজিয়ে থাকে তাই সাজাকের রূপের তুলনা হয় না। বছরের প্রতিটি সময়ে আপনি সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন তবে শরৎ, বর্ষা ও হেমন্তে সাজেকের চারপাশে মেঘের খেলা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তাই সাজেক ভ্রমণের এটাই সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত সময়।

সাজেকে যাওবার সহজ উপায়?

যেহেতু খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা থেকে সাজেকের দূরত্ব খুবই কম তাই আপনি তাড়াতাড়ি যাবার জন্য খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে যাবেন। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার হলেও এটি রাঙ্গামাটি থেকে প্রায় অনেক কিলোমিটার দূরত্বে। এজন্য প্রথমে খাগড়াছড়ি আসতে হবে। আপনি যে কোন জেলার ই হোন না কেন। আমি ঢাকার কথা বলব ঢাকা থেকে প্রায় অনেকগুলো বাস পাওয়া যায় তার মধ্যে শান্তি পরিবহন, শ্যামলী, এস আলম পরিবহন, ঈগল পরিবহন এবং সৌদিয়া পরিবহন বাস উল্লেখযোগ্য।

এসি নন এসি বাসের পার্থক্য অনুসারে ভাড়ার পার্থক্য হয়ে থাকে। নন এসি বাসের ভাড়া প্রায় পাঁচ শত বিশ টাকা ও এসি বাসের ভাড়া 700 টাকা। এসি বাসের মধ্যে বিআরটিসি এবং সেন্টমার্টিন পরিবহন খুবই ভালো। এসব বাসের কাউন্টার ঢাকা গাবতলী কলাবাগান সহ বিভিন্ন প্রান্তে এসব বাস কাউন্টার রয়েছে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক এর মোট দূরত্ব মোটামুটি 70 কিলোমিটার। সাজেক ভ্যালি যেতে তাদের গাড়ি অথবা জিপ গাড়ি ভাড়া নিয়ে যেতে পারেন। আসা যাওয়া থেকে শুরু করে দুই দিনের মোট ভাড়া নিবে 8000 থেকে 10000 টাকা। তবে একটি গাড়িতে আপনারা মোট 12 থেকে 15 দিন যেতে পারবেন।

যদি আপনাদের লোক কম হয় তাহলে অন্য গুরুপের সাথে কথা বলে শেয়ার করে গাড়ি নিলে আপনাদের খরচ অনেক কম পড়বে। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে সিএনজি দিয়ে সাজেকে যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে ৪০০০ থেকে 5 হাজার টাকা। কিন্তু পাহাড়ের রাস্তা অনেক উঁচু নিচু হওয়ার ফলে সিএনজি দিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো।

আপনারা যদি দুই-তিনজন হয়ে থাকেন তাহলে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর থেকে অনেক গুরুপ পাওয়া যায়। সেসব গুরুপের সাথে কথা বলে তাদের গাড়ি শেয়ার করতে পারেন অথবা জীব সমিতির সাথে কথা বললে উনারা যে কোন গুরুপের সাথে ম্যানেজ করে দেবে।

প্রথমে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি গিয়ে সেখান থেকে দীঘিনালায় গিয়ে তারপর সেখান থেকে সাজেকে যেতে পারবেন। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার ভাড়া বাসে মাত্র 35 টাকা এবং মোটরসাইকেলে যদি যান তাহলে জনপ্রতি 100 টাকা করে লাগবে। কারণ খাড়াছড়ি থেকে দিঘীনালার দূরত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। যদি কারো সাথে ভাড়া শেয়ার করতে না পারেন অথবা আপনার সামর্থ্য থাকে।

তাহলে একাই মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে সাজেক ঘুরে বেড়াতে পারেন। তবে যে কোন গাড়ি ঠিক করার আগে কোন জায়গা গুলো ঘুরে দেখবেন এবং আপনার পুরো প্লান গুলো আগে থেকে ঠিক করবেন তারপর গাড়ী ঠিক করবেন। আপনাকে সবসময় মনে রাখতে হবে আপনি যে জায়গা থেকে যান না কেন।

আপনাকে দীঘিনালায় দশটার আগেই পৌঁছাতে হবে। কারণ বাকি রাস্তা নিরাপত্তার জন্য সেনা বাহিনীর এসর্কোটে গিয়ে এসর্কোট গ্রহণ করতে হবে। সেনাবাহিনীর দিনে মাত্র দুই বারই এসর্কোট দিয়ে থাকেন। একবার হচ্ছে সকাল দশটায় এবং আরেকবার বিকালের দিকে। তাই মিস করলে আপনাকে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু যদি বিকেলের তাও মিস করেন, তাহলে পরের দিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এই এসর্কোট ছাড়া কোনভাবেই ওই জায়গায় যাওয়ার অনুমতি পাবেন না। দিঘীনালা ঘুরে দেখার পর যদি হাতে সময় পান তাহলে হাজাছড়া ঝর্ণা ঘুরে দেখতে পারবেন। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে সাজেকে যেতে আপনার সময় লাগবে দুই থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা।

 

আরো পড়ুনঃ

 

Coxsbazar sea beach

Coxsbazar sea beach

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত(Coxsbazar sea beach) বাংলাদেশ

কখনো যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কোনটি? তাহলে আপনি উত্তর দেবেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত হলো কক্সবাজার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আর্কষণীয় পর্যটন স্থান হলো কক্সবাজার। সময়ের সাথে প্রকৃতি বদলে যায়। বিশাল এই সাগর সৈকত দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এ এবং সূর্যাস্তের মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ রাখে। এই সৈকতটি প্রায় 120 কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত।

কখন কক্সবাজার ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়?

ভ্রমণ প্রেমীরা ভ্রমণ করার জন্য সাধারণত শীতকালই বেছে নেন। কিন্তু কক্সবাজার এমন একটি আকর্ষনীয় পর্যটন স্থান যেখানে শীতকাল ছাড়াও আপনি যে কোন সময় আসতে পারেন। সময়ের সাথে প্রকৃতি বদলে যায়। ঠিক এই প্রকৃতির সুন্দর রুপের প্রভাব বিরাজ করে এ কক্সবাজারেও। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে এই সুন্দর পূর্ণিমা রাতে অবশ্যই আপনাকে মুগ্ধ করবেই। তাই শরৎ এর নিঝুম বরর্ষায় অথবা শরৎ এর নীল আকাশের সাথে বন্ধুত্বের মিতালী নিয়ে আপনি চলে আসতে পারেন এই কক্সবাজারে। প্রিয় ভ্রমণ প্রেমী, যদি আপনি শীতকাল ছাড়া অন্য কোন সময়ে কক্সবাজার যেতে চান। তাহলে আপনি দুইটি সুবিধা পাবেন। একটি হলো যেকোনো হোটেলের ভাড়া অনেক কম সেই সাথে অন্যান্য দূর্বাদির দাম খুবই কম। তাই আপনার ভ্রমণের বাজেট যদি খুবই কম হয়ে থাকে এবং আপনার ভ্রমণ এর শখ থেকে থাকে তাহলে আপনি শীতকাল ছাড়া অন্য কোন সময়ে কক্সবাজারে আসতে পারেন।

বাস দিয়ে কিভাবে কক্সবাজার যাওয়া যাবে?

আপনার এলাকা থেকে ঢাকা আসার পর। আপনি ঢাকা থেকে রেলপথ, আকাশ পথ এবং সড়ক পথে কক্সবাজার যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে কক্সবাজার গামী বিভিন্ন ধরনের বাস পাওয়া যায়। তার মধ্যে রয়েছে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এর আলম মার্সিডিজ বেঞ্চ, হলদিয়া, শ্যামলী পরিবহন, এস আলম, সোহাগ পরিবহন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বাস গুলোর শ্রেণীভেদে যেমন এসি নন-এসি ইত্যাদির উপর নির্ভর করে প্রতিটি সিট এর ভাড়া 900 টাকা থেকে 2000 টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিভাবে যাবেন?

অনেকেই ট্রেনে ভ্রমণ করতে খুবই ভালবাসে। তাই কক্সবাজার যাওয়ার পথে আপনি চাইলে ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার যেতে পারবেন। এ জন্য আপনি কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেল স্টেশন হইতে সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, তূর্ণা নিশিথ অথবা মহানগর প্রভাতী। এছাড়া রয়েছে গোধূলি তাছাড়া চট্টগ্রাম মেইলেও আপনি যাত্রা করতে পারবেন খুব সহজেই। চট্টগ্রামে ট্রেন থেকে নামার পরে নতুন ব্রিজ নামক এলাকা অথবা দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে হানিফ, এস আলম, ইউনিক এছাড়াও আপনি বিভিন্ন নামের বাস পেয়ে যাবেন। এসব বাসের কোয়ালিটি অনুসারে বাসের ভাড়া 280 টাকা থেকে 550 টাকার মধ্যেই হবে।

ঢাকা থেকে কিভাবে বিমানে কক্সবাজার যাওয়া যায়?

যারা বিমানে ভ্রমণ করতে চান সেসব ভ্রমণ প্রেমিকদের জন্য। আপনার এলাকা বা বাসা থেকে ঢাকা আসার পরে আপনাকে আসতে হবে ঢাকা এয়ারপোর্ট। এয়ারপোর্ট থেকে চট্টগ্রামগামী বেশ কয়েকটি বিমান পাওয়া যায়। সে সব বিমানের মধ্য হল নভোএয়ার, বাংলাদেশ বিমান, ইউ এস বাংলা ইত্যাদি সহ বেশ কিছু বিমান সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দর হইতে কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকেন। আকাশ পথে চট্টগ্রাম আসার পরে আপনি উপরে উল্লেখিত বাস এর মাধ্যমে কক্সবাজারে আসতে পারবেন।

কক্সবাজার আসার পরে কোন হোটেলে থাকবেন?

আপনি যদি আগে থেকেই হোটেল ঠিক না করে থাকেন। তাহলে কক্সবাজারে সরাসরি আসার পরে আপনি অনেক চিন্তায় পড়ে যাবেন। কোথায় ভালমানের হোটেল ও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তাই আপনার উচিত হবে আপনি যদি কোথাও ভ্রমন করতে চান আগে থেকেই হোটেল বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। তাহলে সরাসরি গিয়ে হোটেলে উঠতে পারলেন এবং আপনার ভ্রমণ টা অনেক সুন্দর হবে। কক্সবাজারের উন্নতমানের হোটেল গুলো প্রায় পঞ্চাশটি হোটেলের তালিকা আমার একটি পোস্টে দেওয়া আছে। আপনি সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বুকিং দিতে পারবেন।

800 টাকা থেকে 3000 টাকার মধ্যে হোটেলঃ
ইকরা বিচ রিসোর্ট, মিডিয়া ইন, অভিসার, কল্লোল, নীলিমা রিসোর্ট, হানিমুন রিসোর্ট, উর্মি গেস্ট হাউস, কোরাল রিফ ইত্যাদি।

3000 টাকা থেকে 6000 টাকার মধ্যে হোটেলঃ
নিটোল রির্সোট, সী প্যালেস, কোরাল রীফ, সী গাল, আইল্যান্ডিয়া, ইউনি রির্সোট, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন ইত্যাদি।

800 টাকা থেকে 3000 টাকার মধ্যে হোটেলঃ
ওশেন প্যারাডাইজ, মারমেইড বিচ রির্সোট, লং বীচ, সায়মন বিচ রির্সোট, কক্স-টুডে, হেরিটেজ ইত্যাদি।

ওপরে বর্ণিত মূল্যের চেয়ে আরো কম দামের হোটেল পাওয়া যায় এজন্য আপনাকে একটু আগে থেকেই খোঁজখবর নিতে হবে। তবে অফসিজনে হোটেলের থাকার মূল্যে সাধারণত এই দামের চেয়ে অর্ধেকেরও কম থাকে। তাই সময় থাকলে কক্সবাজারে নেমে দরদাম করে হোটেল নিলে অনেক ভালো হবে। আরো কম দামে রিসোর্টে থাকতে চাইলে আপনাকে কলাতলী বিচ থেকে আর একটু দূরে লং বিচ হোটেল আছে। তার সামনে উল্টোপাশের গলির ভেতরের দিকে হোটেলগুলোতে খোঁজ নিতে পারেন। তবে মেইন রোড ও বিচ থেকে যত দূরে যাবেন হোটেলের ভাড়া সাধারণতো আরও কমে যাবে। কিন্তু হোটেল খোঁজার ক্ষেত্রে কখনো সিএনজি ওয়ালা রিকশাওয়ালার পরামর্শ নেবেন না। প্রয়োজনে হোটেলের ফেসবুক পেজ এবং তাদের ওয়েবসাইট থেকে তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

আপনার পরিবার নিয়ে যদি আরেকটু স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে চান! তাহলে আপনাকে একটি ফ্লাট ভাড়া নিতে হবে। এজন্য এসি ও নন-এসি 3 থেকে 4 বেডরুম ও রান্নাঘর বিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাটের প্রতিদিন ভাড়া হতে পারে প্রায় দুই হাজার টাকা থেকে 15 হাজার টাকার মধ্যে। তাছাড়া নিজের পছন্দ ও সাধ্যমত ভালো একটি হোটেল বা রির্সোট পেতে আপনাকে একটু খোঁজাখুঁজি করতে পারেন।

বিচ ভিউ হোটেল কী?

বিচ ভিউ হোটেল মানে এসব হোটেল হোটেল এর রুম থেকে সমুদ্র সৈকত দেখা যায়। আমাদের মাঝে অনেকেই আছে তাদের ইচ্ছা হয় যে রুম থেকেই সমুদ্র সৈকত দেখা যায়। তাই অনেকে এরকম হোটেল খুঁজে থাকে। কিন্তু এরকম হোটেলগুলোর ভাড়া অনেক বেশি হয়ে থাকে। এজন্য আপনি কম ভাড়ায় থাকতে চাইলে আপনাকে কক্সবাজারে ডালসিজনে আসতে হবে। বীচ ভিউ হোটেল বাদেও আরো কিছু রির্সোট ও হোটেল আছে। যেমনঃ হোটেল সী ক্রাউন, সাইমান, নীলিমা বিচ ও প্রাসাদ প্যারাডাইস ইত্যাদি।

কক্সবাজার ভ্রমণে কি কি করবেন?

তপ্ত বালির বিছানা, সাগরের উত্তাল জলরাশি কিংবা ঝাউবনের সারি আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে টেনে নেবে। সাগরের জলে রোদ্রস্নান করা, বেলাভূমিতে হাঁটাহাঁটি করা কিংবা সূর্য্যাস্থের নয়ন জুড়ানো দৃশ্য গুলো প্রতিটি ক্ষণেই দেবে মানসিক প্রশান্তি। যারা সমুদ্রে নামবে, নামার আগে সতর্ক থাকবেন এবং জোয়ার-ভাঁটার সময় জানতে হবেই। প্রিয়জনদের জন্য উপহার সামগ্রী কেনার জন্য বার্মিজ মার্কেট থেকে কেনা কাটা করতে পারেন, যদি আপনার হাতে সময় থাকে। সমুদ্রের সকল রূপ উপভোগ করতে চাইলে। আপনাকে অবশ্যই সূর্য উদয় ও সূর্যাস্তের সময়টুকু বিচে কাটাতে হবে। আপনি যদি আরো বিস্মিত হতে চান তাহলে ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সমদ্র সৈকত দেখতে হবে। যদি পূর্ণিমার রাতে যান তাহলে সন্ধ্যার পরের সময়টুকু সমুদ্র কাটাতে পারেন। আপনার সুন্দর মুহূর্ত গুলি ফ্রেমে বন্দি করে রাখতে চান, এজন্য আপনি ক্যামেরা সাথে নিয়ে যেতে পারেন। অথবা বিচ ফটোগ্রাফারদের শরণাপন্ন হতে হবে। স্পীডবোটের রাইডে যেতে চান, তাহলে ১০০ থেকে ২৫০ টাকার বিনিময়ে উত্তাল ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে সাগরে ঘুরতে পারবেন।

কি কি খাবার কক্সবাজারে পাওয়া যায়?

কক্সবাজারে মানুষের খাদ্য দ্রব্যের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন মানের ও ধরনের খাবার পাওয়া যায়। এর জন্য কক্সবাজারে খাবারের মানে ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। কক্সবাজারের বিভিন্ন ধরনের মধ্যম মানের রেস্টুরেন্ট রয়েছে সেগুলোর মধ্য হলো ঝাউবন, পৌষি, রোদেলা, ধানসিঁড়ি, নিরিবীলি অন্যতম। সিজনের সময় রেস্টুরেন্টগুলোর খাবারের মূল্য বেশি হতে পারে এবং অফসিজনে খাবারের দাম কম হতে পারে।

নিম্নে কিছু খাবারের তালিকা ও দাম দেওয়া হলো। ভাতের মূল্য 20 থেকে 40 টাকা প্লেট, মিক্সড ভর্তা টাকা 75 থেকে 300 টাকা (আট রকমের ভর্তা)। তাছাড়া লইট্যা ফ্রাই প্রায় 100 থেকে 120 টাকা থাকবে (ছয় থেকে দশ টুকরা) এর মূল্য 150 টাকা। গরুর মাংস 150 থেকে 200 টাকা 2 জন শেয়ার করে খেতে পারবেন। রান্না করা রুপচাঁদা ফ্রাই 300 থেকে 400 টাকা ও ডালের মূল্য ৩০ টাকা ৬০ টাকা। আপনি যদি হায়দ্রাবাদি বিরানি খেতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে লাবনী পয়েন্ট সংলগ্ন হান্ডি রেস্তোরাতে। প্রতি প্লেট বিরানির মূল্য মাত্র 200 থেকে 250 টাকা। তাছাড়া আশে পাশে কেওএফসিতে খেতে পারেন।

ভ্রমণ টিপস এবং ভ্রমণের সময় সর্তকতা সমূহঃ

1. যেকোন ধরণের সমস্যার সম্মুখিন হলে টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতা নিবেন। হটলাইন +০৮৮০১৭ ৬৯৬৯ ০৭৪০
2. বাজেট কম হলে অফসিজনে কক্সবাজার বেড়াতে যান
3. যাতায়াতের ভাড়ার ও যেকোন কিছু কেনাকাটার জন্য ঠিকমত দরদাম করে কিনবেন
4. রেস্টুরেন্টে খাবার আগে দরদাম করে খাবেন
5. হোটেল সম্পর্কে ভালো করে জেনে তারপর হোটেল ঠিক করুন
6. সাগরে নামার আগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ

কক্সবাজার ঘুরতে গেলে শুধুমাত্র সমুদ্র সৈকত নয়, আশেপাশের আরও বেশকিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে সেগুলো ঘুরে দেখবেন। সেজন্য আপনার নিজের সময় ও সুবিধা অনুযায়ী কক্সবাজার আসার পূর্বেই পরিকল্পনা করে নিন। কোন জায়গা গুলো ঘুরতে যাবেন। কক্সবাজারের আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য স্থান হলোঃ

১. মহেশখালী
২. সেন্টমার্টিন
৩. হিমছড়ি
৪. রামু বৌদ্ধ বিহার
৫. ইনানী সমুদ্র সৈকত
৬. রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড
আরো কম খরচে যদি কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চান তাহলে আমাদের এই ব্লগ পড়ুনঃ স্বল্প খরচে কক্সবাজার ভ্রমণ

 

আরো পড়ুনঃ

Garo Hills and Gopalpur border, Durgapur

Garo Hills and Gopalpur border, Durgapur

গারো পাহাড় ও গোপালপুর সীমান্ত, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা

আঁকাবাকা পথ ঘন সবুজ গারোপাহাড় ছোট ছোট টিলা আর নদী দ্বারা বেষ্টীত প্রাচুর্য্ময় জনপদ নেত্রকোণার দূর্গাপুর ।
অনেক দূর থেকে তাকালে মনে হয় যেন ঘন কালো মেঘ আকাশ আর মাটির সাথে মিশে আছে সেই কবে থেকে মিতালি করার জন্য।

মেঘালয় সিমান্তের কোল ঘেসে দারিয়ে প্রাচিন জনপদেরে এক অনন্য নিদর্শন এখানে রয়েছে ক্ষুদ্র –নৃ- গোষ্ঠির বিচিত্র রকমের জিবনধারা যা প্রকৃতির এক অপার হাতছানি । আমাদের ব্যস্ত ও কোলাহোল পূর্ন জীবন থেকে হারিয়ে নিঝুম শান্ত এই পকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার এ – এক অনন্য উৎকৃষ্ট জায়গায় গারো পাহাড় ও এর আশেপাশের এলাকা।

tour Garo Hill

গারোপাহারের অবস্থান : গারোপাহাড় অবস্থিত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো ও খাসিয়া পর্বত মালার একটি অংশ । এই পর্বত মালার কিছুটা অংশ ভারতের আসাম রাজ্য ও বাংলাদেশের শেরপুরের নালিতা বাড়ি উপজেলায় অবস্থিত ।

এছাড়াও বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জে ও আছে এর কিছুটা অংশ নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুরের সমস্ত উত্তর দিকটা জুরেই রয়েছে গারোপাহাড় । ঐ সব পাহাড়ের অধিকাংখশ অবস্থানই ভারতের সিমানাই অবস্থিত । আর বাংলাদেশের সিমানাই রয়েছে ছোট , বড় , অসংখ্য পাহাড়ি টিলা ।

Garo Hills

এসব টিলায় চরে দেখা যায় বিরাট বিরাট পাহাড় কিছু কিছু পাহাড় গরিয়ে নিচের দিকে নেমে এসেছে ঝর্নার মতো স্বচ্ছ জলধারা । এই জলধারার জলই স্থানিয় জনগোষ্ঠির জলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম ।

পাহাড় দেখার সুবিধা জনক স্থান :
• রানিখং
• ভবানিপুর
• আরাপুর
• গোপালপুর
• কালিকাপুর

বিভিন্ন উপজাতির বাস :
দূর্গাপুরের বিড়িসিরি ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আদিবাসি যেমন –
1. গারো
2. কৌজ
3. হাজং
4. ও বানায় প্রভৃতির আদিবাসির বসবাস ।

আদিবাসিদের জিবনধারা : বিভিন্ন উপজাতি আদিবাসিদের বাড়ি সমতলে আবার কারো বাড়ি টিলার উপর । গারোপাহাড়ের বিরুপ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ সংগ্রাম করে এদের বসবাস । যেমনঃ

I. গ্রামে গারো পরিবারের বাড়িতে ঢুকলে দেখা যায় গারো নারিরা ঘরে নেই তারা গ্রামের জঙ্গলে ঢুকে লাকড়ি সংগ্রহ করছে ।
II. কেউবা কাধে সন্তান ঝুলিয়ে মাঠে কাজ করছে ।
III. গারো সমাজ কাঠামোতে রয়েছে নারি স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ঠ মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ।
IV. ঘর ,গৃহস্থলি , কয়লা ও পাথর উত্তোলন সহ পরিবার পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই নারির একচ্ছত্র ভূমিকা পালন করে থাকেন ।

Garo Mountain foothill

দর্শনিয় স্থান : পাহাড়ি টিলার সর্ব উপরে রয়েছে খ্রীষ্টধর্মালম্বিদের তীর্থ স্থান রানিখং মিশন । এই মিশনের খুব কাছেই রয়েছে হাজংমাতার রাসমনির স্মৃতিসৌধ । গারোপাহাড় বেয়ে ঝর্নার মতো নেমে আসা সমিশ্বরি নদী বর্ষায় রাক্ষসি রুপ নেয় ভাসিয়ে দেয় বির্স্তিন জনপদ ।

ভরা মৌসুমে নদীর বুক জুরে থাকে বিশাল জলরাশি গারো পাহাড়ের এসব দৃশ্য পরিচয় করে দেয় বৈচিত্র ময় এক জিবন ধারার ।তাই চলুন এই কর্মব্যস্ততার মাঝে একটু সময় বের করে ঘুরে আসা যাক সৌন্দের্য্র অপর লিলা ভূমি গারো পাহাড়ে ।

বন্ধুরা এরকম দেশের দর্শনীয় ও পর্যটক আর্কষণীয় স্থান সম্পর্কে জানতে আমাদের Study Based সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এই আর্কষণীয় স্থানটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।

আমাদের দেশের আরো দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানুন নিচের পোস্ট থেকে।

মহাস্থানগড় ও তার আদি ইতিহাস

https://www.studybased.com/history-of-mahasthangarh-and-tourist-place/

History of Mahasthangarh and tourist place

History of Mahasthangarh and tourist place

মহাস্থানগড় ও তার আদি ইতিহাস

মহাস্থান গড়ঃ

উত্তর বঙ্গের শিল্প নগরি হিসেবে খ্যত বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে শিবগন্জ থানার মহাস্থান নামক স্থানে মহাস্থান গড় অবস্থিত । করোতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত মহাস্থান গড়ের প্রাচিন নাম পুন্ড্র নগর এখানে পাওয়া প্রত্নত্বাত্তিক নির্দশন থেকে জানা যায় যে  খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দি থেকে খ্রিষ্ট্রিয় ১৫ শ শতাব্দির মধ্যে এই নগরি একটি সমৃদ্ধিশালি জনপদ হিসেবে গড়ে উঠেছিল । বেশ কয়েক শতাব্দি পরজন্ত্য এখানে  মৌর‌জি ও পাল বংশের প্রাদেশিক রাজধানি ছিল এবং সর্বশেষ শাষক পরশুরাম সময় পর‌্যন্ত প্রাচিন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানি ছিল

bride chamber of Behula

মুসলিম যুগের প্রথম দিকে বিখ্যাত দরবেশ ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য এখানে আসেন তার নাম ছিল হযরত শাহ্ সুলতান বলখী মাহিশাওর  ( র ) এই মহাপুরুষ ইসলাম প্রচারের জন্য সূদুর বল্লখদেশ থেকে এই মহাস্থান গড়ে আগমন করেন । তিনি এখানে এসে হিন্দুরাজা পরশুরাম কে পরাজিত করেন এবং ইসলাম ধর্ম সুপ্রতিষ্ঠিত করেন এবং মৃর্তূকালে তিনি এখানেই শায়িত আছেন ।

এই নগরির ধ্বংসাবশেষ এর বিবরণ প্রথম লিপিবদ্ধ করেন প্রত্নত্বাত্তিক ভূ কানন ১৮২০ সালে । এছাড়াও চিনা পর্যটক  ইউঅ্যান সাং ও আলেকজেন্ডার ক্যানিং হাম ও এই নগরি পরিদর্শন করেন এবং ১৮৭৯ সালে এটি প্রাচিন পূন্ড্রনগরির ধ্বংসাবশেষ বলে চিহ্নিত করা হয় । ১৯২৮-২৯ সালে প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত বিদ ইউ্এন দিক্ষিতের পরিচালনায় *এর খননের কাজ শরু করা হয়  ।

মiহাস্থান দর্শনীয়স্থান

প্রাচিন এক সময় মহাস্থানগড় বাংলাদেশের রাজধানি ছিল ।  ইতিহাস থেকে জানা যায় যিশু খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে থেকেই এখানে জনপদ গড়ে ওঠে ।

এখানে কয়েক শতাব্দির মৌর্য্ , পাল , গুপ্ত ও সেনদের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল । গৌড় থেকেই গড়ের উৎপত্তি । (১০৮২-১১২৫) সাল পর্য্ন্ত অরক্ষিত রাজ্যের রাজা ছিল লক্ষণ সেন । পরবর্তীতে রাজা ছিলেন নল । তার আবার আরেকটি ভাই ও ছিল তার নাম ছিল নল । রাজ্য নিয়ে নল ও নীলের মধ্যে বিরোধ লেগেই থাকত ।

ঠিক এমন সময় ভারতের দক্ষিণাতের শ্রীক্ষেত্র নামক জায়গায় থেকে এক অভিশপ্ত ব্রাহ্মণের আগমন ঘটে । যিনি কিনা তার পাপের প্রায়শ্চিত করতে করতে এখানে আসেন । তিনি পরশু বা কুঠার ‍দিয়ে তার মাকে হত্যা করে অভিশপ্ত হন । তিনিই এই দুই ভাইয়ের দন্দের অবসান ঘটান । এবং পরবর্তিতে তিনিই এই রাজ্যের রাজা হন । তার আসল নাম হলো রাম। তিনি পরশুরাম নামেই পরিচিত ।

পশুরামের বাড়ী

এক সময় বল্লখ দেশ থেকে এক আধ্যাতিক ফকিরের আগমন ঘটে প্রাচিন এই নগরিতে । তার নাম ছিল হযরত শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখি মাহিসাওর ( র: ) যিনি শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে  এখানে আসেন। তার কিছু আধ্যাতিক কর্মকান্ড দেখে প্রাচিন পুন্ড্রনগরীর দলে দলে হিন্দু ধর্মের মানুষরা ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল । এ নিয়ে ( ১২০৫-১২২০) এটা নিয়ে রাজা পরশু রামের সাথে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং এ যুদ্ধে হযরত শাহ্ সুলতান ( রঃ ) পরশুরামকে পরাজিত করেন ।

আবিষ্কার

১৮০৮ সালে ফ্রান্সিস বুকানন ,হ্যামিলটন প্রথম মহাস্থান গড় আবিষ্কার করেন । পরবর্তিতে ১৮৭৯ আলেক্সজেন্ডার ক্যানিংহাম তিনিই এই নগরিকে পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানি বলে অভিহিত করেন । এছাড়াও সি,জে ও ডোনেল ই,ভি , ওয়েস্টম্যাকট ,হেনরি বেভারিজ প্রমুখ লোক উক্ত এলাকাটি পরিদর্শন করেন । ১৯৩১ সালে খনন করে মেলে ব্রাহ্মি লীপি উক্ত লীপিতে পাওয়া যায় সম্রাট অশোক কিভাবে দুভিক্ষ মানুষদের কে রাজ ভান্ডার থেকে অর্থ ও অন্ন প্রদানের নির্দেশ দেন ।

নগরের কাঠামোগত অবস্থান ঃ দূর্গ কাঠামো ছাড়াও প্রায় শতাধিক ঢিবি ৯ কি.মি এলাকা জুড়ে অবস্থান করছে ।  .

তারমধ্যেঃ

খননকৃত ঢিবির মধ্যে ঃ

1.  গোবিন্দ ভিটা   1.  খুল্লনার ধাপ  3.  মঙ্গলকোট   4.  গদাইবাড়ি ধাপ   5.  তোতারাম পন্ডিতের ধাপ  6.  নরপতির ধপ  7.  গোকূল মেধ  8.  স্কন্ধের ধাপ  9.  বৈরাগির ভিটা

অখননকৃত ঢিবিঃ

1.  .শিলাদেবীর ঘাট ,2  ধনিকের ধাপ, 3 চুনোরুদিঘীর ধাপ ,4  রাসতলা ধাপ 5,মন্দিরির 6 শশিতলা ধাপ  7, কৈব্লিকির ধাপ 8, দরগাহ্  9 , চাঁদের ধাপ 10 , জুরাইনতলা  ,

11, বিষমর্দন 12, সন্ধিনাথ ধাপ 13,  পরশুরামের 14 ,মলিনার ধাপ 15, শালিবাহন বাজার ,16, বলাই ধাপ 17,প্রাচির ঢিবি 18, মলিনান ধাপ 19, ঢিবি  20, কঞ্জির হাড়ি ধাপ  21, মঙ্গলনাথের ধাপ  22, ধনভান্ডার ঢিবি  23,  কাঁচের আঙ্গিনা  24, লহনার ধাপ  25, খোজার ঢিবী  26, কানাই ধাপ 27, কেদার ধাপ  28, সন্নাসির ধাপ 29, দশহাতির ধাপ 30, পদ্মার বাড়ি  ইত্যাদি ।

খনন কাজঃ  

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কে. এন দিক্ষিত ১৯৮৮-২৯ খ্রি: প্রথম খনন কাজ শুরু করেন ।পরবর্তিতে  ১৯৩৪-৩৬ খ্রি খনন স্থগিত রাখেন । ১৯৩১ সালে খননের সময় পাওয়া যায় ব্রাহ্মী লিপি । তারপর ১৯৬০ সালে উত্তর দিকে পরশুরামের প্রসাদ ,জিয়ৎ কুন্ড ,খনন করা হয়  । পরবর্তী খনন কাজ গুলা নানা সময়ে নানা ভাবে করা হয় । এরপর ১৯৮৮-১৯৯১ পর্য্ন্ত পুনরায় খনন কাজ পরিচালনা করা হয় । এভাবে প্রায় প্রতি বছরই আজ অব্দী খনন এর কাজ চলছেই ।

মহাস্থান গড়ে ৭ টি যুগের সাথে আমরা পরিচিত হই তা হলোঃ

প্রথম যুগঃ

এখানে মৌর্য্দের কিছু সংস্কৃতি আমরা খুজে পাই । যা দক্ষিণ ভারতিয় কালো , লাল ,এবং ধুসর রঙ্গের মসৃণ অনেক মাটির তৈরি তৈজস খুজে পাওয়া যায় ।

দ্বিতীয় যুগঃ

দ্বিতীয় যুগে সাধারনত পোড়া মাটির ফলকে এর ‍নিদর্শন পাওয়া যায় । যা ( খ্রিষ্টপূর্ব ৩৬৬-১৬২ ) অব্দে এ সংস্কৃতির পর্য্য় মৌর্য্ যুগের মধ্যেও পড়ে ।

তৃতীয় যুগঃ

এটি সাধারণত খ্রিষ্টপূর্ব ১৯৭-৪৭  অব্দে, খ্রিষ্টপূর্ব ৪০ অব্দ থেকে ১২২ খ্রিষ্টাব্দ । এ যুগের নিদর্শন হিসেবে রৌপ, মূদ্রা , রুপার বালা পোড়া মাটির ফলক ইত্যাদির নিদর্শন পাওয়া যায় ।

চতুর্থ যুগঃ

এই সময় কালকে কুষাণ গুপ্ত যুগ বলে আখ্যায়িত করা হয় । মৃৎ পাত্রের টুকরা নকশা সহ রান্নার পাত্র ,গামলা , ঢাকনি , পিড়িচ , ভাঙ্গা ইটের টুকরো ,ও পোড়া মাটির সিলমোহর এর নিদর্শন পাওয়া যায় ।

পঞ্চম যুগঃ

এ যুগ কে গুপ্ত যুগ বলে গন্য করা হয় । এটির সময় কাল ৩৬১-৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্য্ন্ত । এ সময় নগরির নিকটে গোবিন্দ ভিটা নামের ইট দিয়ে নির্মিত সুবিশাল মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এবং আশেপাশের ইটের রাস্তার নিদর্শন পাওয়া যায় ।

ষষ্ঠযুগঃ

এটি পাল যুগের আবির্ভাব কে নিদর্শন করে ,এ সময় নির্মিত নগরের পূর্ব প্রান্তে খোদার পাথর ভিটা , মনকালির কুন্ড ধাপ , বৈরাগীর ভিটা , ও পরশুরামের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় । নগরের বাইরের দিকে অনেক বৌদ্ধ ইমারত নির্মান করা হয়েছিল । এটি ছিল সমৃদ্ধ শালি যুগ ।

সপ্তম যুগঃ

এই যুগে মুসলিম যুগের নিদর্শন পাওয়া যায় । ধ্বংসাবশিত মনকালীর কুন্ডের উপর নির্মিত ১৬ ‍গম্বুজ বিশিষ্ঠ্য মসজিদের ধ্বংসাবশেষ এর নিদর্শন পাওয়া যায় । নগরির ভিতরে বৈরাগির ভিটা , খোদার পাথর ভিটা , জিয়ৎ কুন্ড , পরশুরামের প্রাসাদ আবিষ্কার হইছে ।

১৯৮৮-৯১ সালে খননের ফলে নগরের প্রবেশের জন্য তিনটি প্রবেশ দ্বার পাওয়া যায় । এছাড়াও উত্তর ও পূর্ব  দিকের রক্ষা প্রাচির পাওয়া যায় ,এছাড়াও মাজার এলাকার আশেপাশে মন্দিরের নিদর্শন পাওয়া যায় ।

কিভাবে যাবেন মহাস্থানঃ

এই স্থানটি বগুড়া শহর থেকে ১৩ কি.মি উত্তরে ,বগুড়া –ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত । পাশ দিয়েই বয়ে গেছে করতোয়া নদী । ঢাকা থেকে বাসে যাওয়ার জন্য ঢাকা –টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জ ছেড়ে আসতে হবে বগুড়া শহরে । কাছাকাছি কোনে এয়ারপোর্ট নেই । আর দূরে হলেও এআরবাস পাওয়া একটু মুসকিল । তাই বাস যোগেই যেতে সহজ হয় । যেতে ৫ ঘন্টা সময় লেগে যাবে । শহর থেকে ১৩ কি.মি উত্তরে মহাস্থানগড় । সি এন জি মোটর কিম্বা রিকশাতেও যেতে পারেন ।

নিদর্শনিয় স্থান

খোদার পাথর ভিটাঃ   এটি ৪ কোনাকৃতির  একটি মসৃণপাথর যা প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না । কথিত আচে রাজা পরশুরাম এটা সংগ্রহ করেন

খোদার পাথর ভিটা

এবং বলি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতেন । হিন্দু মেয়েরা এখানে দুধ ও সিঁদুর দিয়ে স্নান করতো কেউ আবার দুধ ঢেলে ভক্তি করতো  ।

১৯৭০ সালে উক্ত ঢিবি খনন করে তাতে ১ টি মন্দির ও কিছু প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন মেলে । সেই সাথে ৩ টি বৌদ্ধ মন্দির ও পাওয়া যায় ।

মাজার শরিফঃ

শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী ( র : ) এর মাজার শরিফ

১৪ শ শতাব্দির একজন ইসলাম প্রচারক হযরত শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী ( র : ) এর মাজার শরিফ রয়েছে । কথিত আছে , তিনি মাছ আকৃতির নৌকায় চড়ে তার শিষ্য সমেত এই এলাকায় আসেন ধর্ম প্রচারের জন্য । এজন্য তাকে মাহিসাওর বলা হয় । ১৬৮০ সাণল ,- সৈয়দ বংশের আওরঙ্গজেব , তহির ,ও সৈয়দ আব্দুর রাহ্মান এই তিন ভাইয়ের উপর মাজার শরিফের দায়িত্ব প্রদান করা হয় । অনেকেই এই মাজার শরিফে আসেন তাদের মরস্কামনা পূর্ন করার জন্য ।

জাদুঘর :

মহাস্থান জাদুঘর

প্রায় ১০একর জায়গায়র উপর নিমৃত  এই জাদুঘর । বগুড়া থেকে ৭ কি.মি উত্তরে গোবিন্দ ভিটার অপজিটে অবস্থিত । ১৯৬৭ সালে এটি নির্মিত মৌর্য্ , গুপ্ত , পাল , সেন এবং মুসলিম যুগের নিদর্শন গুলো উক্ত জাদুঘরে অবস্থান করে নিয়েছে ।

এখানে রয়েছে –সোনা , রুপা , ব্রোন্স , পাথর , কাসা , পোড়ামাটির ফলক ,ও পোড়ামাটির মূর্তি , কুষন , ইট ও বিভিন্ন শিলালিপি ধারালো অস্ত্র , তৈজস ইত্যাদি প্রত্নত্বাত্তিক নিদর্শন এখানে স্থান পেয়েছে ।

স্কন্ধের ধাপঃ  এটি একটি প্রাচিন পুন্ড্রনগর এর একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ । উক্ত মন্দিরের অবস্থান মহাস্থান থেকে ৩ কি.মি দূরে দক্ষিন দিকে একটি জলাশয়ের পাশেই অবস্থিত । ইতিহাস থেকে জানা যায় উক্ত মন্দির টি কার্তিকের মন্দির ছিল ।

মানকালির ঢিবিঃ মানকালীর ঢিবি এটি এমন একটি স্থান যেখানে একই জায়গায় মন্দির ও মসজিদের অবস্থান । ১৯৬৫-১৯৬৬ সালে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের অধিনে এখানেন খনন কাজ শুরু করা হয় । এখানে সুলতানি আমলের মসজিদের ধ্বংসাবশেষ খুজে পাওয়া যায় । উক্ত মসজিদের আয়তন ২৬.২১ ধেকে ১৪.৫৪ মিটার । এই মসজিদটি খননের সময় মসজিদের নিচে একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এর নিদর্শন পাওয়া যায় । জানা যায় যে , এই মন্দির টি নির্মাণ করেন রাজা মান সিংহ ও তার ভাই তান সিংহ ।

গোকুল মেধঃ গকুল গ্রামে অবস্থিত বলে স্থান টি গকুল মেধ মন্দির নামে পরিচিত । এটি বেহুলার বাসর ঘর নামেও পরিচিত  সমতল ভূমি থেকে এর উচ্চতা ৪৩ ফুট ।১৯৩৪-৩৬ সালে এ ঢিবি টি খনন কালে , এখানে ১৭২ টি ভরাট কুঠুরি আবিষ্কৃত হয় । মূলত এটি বৌদ্ধদের একটি ধর্মিয় উপাসনালয় ছিল । এটি সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিল । আমাদের দেশেএ যাবৎ কালে  আবিষ্কৃত সবচাইতে বড় এবং প্রাচিন নগরির ধ্বংসাবশেষ এই মহাস্থান গড়।

গোবিন্দ ভিটাঃ

মহাস্থানগড় গোবিন্দ ভিটা

এই প্রত্নতত্ব স্থানটি করতোয়া নদীর বাকেঁ দূর্গনগরির সন্নিকটে উত্তর দিকে অবস্থিত । খ্রিষ্ট্রিয় ১২শ- ১৩শ শতকে রচিত সংস্কৃত গ্রন্থ করতোয়া মহাত্ন্যা মন্দিরটির কথা উল্ল্যেখ রয়েছে । একে গবিন্দ ও বিষ্নু মন্দির নামেও পরিচিত । মহাস্থাান থেকে ৭ কি,মি উত্তর – পশ্চিমে এটি প্রথম ১৯২৮-২৯ সালে ,পরবর্তিতে ১৯৬০ সালে খনন কালে খ্রিষ্ট পূর্ব ২য় শতক থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন যুগের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন আবিষ্কার হয়েছে । খননের কারনে যে ইমারতগুলি আবিষ্কিৃত হয়েছে তার মধ্যে পুর্ব ও পশ্চিমের ২ টি মন্দিরের ধ্বংসাবশেস খুবই গুরুত্বপূর্ন । মন্দির ২ টি একটি মজবুত বেষ্টনি প্রাচিরের মধ্যে অবস্থিত ।

পরশুরামের প্রাসাদঃ পরশুরামের প্রাসাদ টি গড়ের প্রাচির সীমানার ভেতরে প্রাচিন যে সভ্যতা আবিষ্কিৃত হয়েছে তার একটি । তার প্রাসাদ কে হিন্দু নৃপতি বা পরশুরামের প্যালেস নামেও পরিচিত ।

জিয়ৎ কুন্ডঃ

জিউৎকুন্ড কুপ

ইতিহাস থেকে জানা যায় রাজা পরশুরাম তার আহত সৈন্যদেরকে এই কুন্ড বা কুয়ার পানি পান করিয়ে সুস্থ করতেন । যদিও এটি একটি ভিত্তিহিন লোক কথা ।

শীলাদেবীর ঘাটঃ  শীলা হল রাজা পরশুরামের ছোট বোন । গড়ের পূর্বেই রয়েছে করতোয়া নদী তার পাশেই এই ঘাট । শীলা দেবী এখানেই গোসল করতেন । তাই এখানে প্রতি বছর হিন্দুরা এখানে স্নান করেন এবং ১ দিনের জন্য একটি মেলাও বসে ।

ভিমের জঙ্গলঃ  মহাস্থান গড়ের ৩ দিকেই বেষ্টিত ঐতিহাসিক স্থান সমৃদ্ধ বিরাট এ জঙ্গল ।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ আশা করি, আপনাদের অনুচ্ছেদটি অনেক ভালো লেগেছে, আপনাদের মতামত কমেন্ট এর মাধ্যমে জানিয়ে দিন। আপনারা এই মহান ঐতিহাসিক স্থানটি ভ্রমণ করতে পারেন। এখানে আপনাকে অনেক আনন্দ দেবে, তাই আপনার পরিবার পরিজন অথবা বন্ধুদের সাথে মিলে ভ্রমণ করুন।

আপনার দেশের এই ঐতিহাসিক স্থানের কাহিণী সবার মাঝে শেয়ার করে বাংলাদেশের মানকে বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিন। তাই Study Based এর পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।

জনপ্রিয় অন্যান্য পোস্ট সমুহঃ

বজ্রপাত কোন দেশে বেশি হয় এবং বজ্রপাত থেকে রক্ষার উপায়

Garo Hills and Gopalpur border, Durgapur