পিঠা উৎসব এবং বাংলাদেশের পিঠা

পিঠা উৎসব এবং বাংলাদেশের পিঠা

পিঠা বা কেক কী? বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকার পিঠাঃ

পিঠা বা পিঠে বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী লোভ নিয় খাবারের মধ্যে অন্যতম । পিঠা বা পিঠে তৈরি হয় আটা বা চালের গুঁড়া, ময়দা অথবা অন্য শষ্য জাতীয় দানা বা তার উপাদান দিয়ে যা বাঙ্গালির নিজস্ব আদিম ঐতিহ্য কে বহন করে আসছে। তবে প্রকৃতি ও অঞ্চলভেদে পিঠার বৈচিত্রতা লক্ষ করা যায়। গ্রাম দেশে সাধারণত নতুন ধান কাঁটার পর পিঠা পুলির আয়োজন করা হয়। সব থেকে শীত মৌসুমে বেশি পিঠা তৈরি করা হয়। সাধারণত শীতের সময় অর্থাৎ পৌষ পার্বন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে পালিত একটি লোক উৎসব। যা পৌষ সংক্রান্তিতে পালন করা হয় এই দিনে রকমারি পিঠা প্রস্তুত করে। পিঠা সাধারনত মিষ্টি স্বাদ যুক্ত হয়ে থাকে তবে- জাতিভেদে টক , ঝাল বা অন্য যে কোন স্বাদ যুক্ত হয়ে থাকে।

পিঠা ও প্রকৃতিঃ

গ্রামের আকাঁবাকা মেঠো পথে খেঁজুরের রস, সাদা কুঁয়াশার ঘোমটা, ভোরের নতুন রবীর হালকা আভা আর সেই সাথে মায়ের হাতে বানানো নতুন ধানের চালের গুঁড়ার তৈরি পিঠা এ যেন সত্যি এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য। তবে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পিঠার তারতম্যের কারণে বাংলার ভিন্ন ভিন্ন পিঠা ভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আর সেই সাথে শীতের আনাগোনায় পিঠের আধিক্য অনেকাংশেই বেড়ে যায়। তাই অনেকেই শীতকে পিঠার মৌসুম ও বলে থাকে।

পিঠাঘর কী?

শহুরে কর্মব্যস্তময় মানুষের পিঠার চাহিদা মেটাতে তৈরি হয়েছে পিঠাঘর। তার কারন শহর অঞ্চলে দিন দিন বেড়েই চলছে পিঠার জনপ্রিয়তা। শহরে ৮০ শতাংশ মানুষই গ্রাম থেকে ভিড় জমিয়েছে কর্মের জন্য শহরে। তাই হালকা কুয়াশার চাদর ও হিমেল হাওয়া দেখলেই পিঠার প্রতি লোভ হয়। তাই এই লোভ কে সংবরণ করতে শহরে বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট থেকে শুরু করে অলিতে গলিতে গরে ওঠে অসংখ্য পিঠার দোকান। কর্ম ব্যস্ততাময় জীবনে নিজ হাতে পিঠা বানানো ভার ভেবেই পিঠা ক্রেতার ভরসা এখন এসব ভ্রামমাণ পিঠা দোকান বা পিঠে ঘরের উপর।

সংস্কৃতি অঙ্গনে পিঠাঃ

বাঙ্গালীর আদী ইতিহাস এবং ঐতিহ্যে পালন করে আসতেছেন প্রাচীনকাল ধরেই, তাই নবান্ন পিঠা-পুলির গুরুত্ব অপরিসীম। এটা বিাঙ্গালীর সংস্কৃতির লোকজ এবং নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। আমরা জানি সাধারণত, শীতকালেই পিঠার সমারোহটা এবং পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায় অনেক বেশি। পিঠা বা কেক বাঙ্গালরি মুখরোচর এবং আদরীণ ও অথিতি আপ্পায়ন খাবার। ফলে এই পিঠার দাওয়াতে আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হতে থাকে। বিভিন্ন উপাদান এবং উপায়ে পিঠা তৈরি করা যায়। আমাদের দেশে একশ পঞ্চাশেরও বেশী রকমের পিঠা থাকলেও আমাদের অঞ্চল ভেদে ত্রিশ রকমের পিঠার প্রচলন বেশি আছে। আমাদের দেশে অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন ধরণের পিঠা প্রচলন থাকলেও চিতই পিঠা, nokshi pitha, ডিম চিতই পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, তেল পিঠা, ভাঁপা পিঠা, পাতা পিঠা, pithe puli, নকশি পিঠা ইত্যাদি আরো শতরকমের পিঠা।

পিঠা উৎসব কী এবং কেন পালন করা হয়?

আমাদের যান্ত্রিক এই নগর জীবনে ভুলতে বসেছেন বারো মাসের তেরো পার্বণের কথা ।এই বাংলাদেশের সংস্কৃতির অনন্য ঐতিহ্য হচ্ছে পিঠার স্বাদ। এই পিঠার স্বাদ ও কীভাবে তৈরি করতে হয়, তা আস্তে মানুষ ভুলতে শুরু করেছে। কারণ, মানুষ কাজের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েছে। তাই আমাদের গ্রামবাংলার এই চিরন্তন সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আয়োজন করা হয়ে থাকে ‘জাতীয় পিঠা উৎসব । এ পিঠা উৎসব পালন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে জাতীয় পিঠা উৎসব পরিষদ। আর এ উদযাপন পরিষদ এবার আয়োজন করেছিলেন ‘জাতীয় পিঠা উৎসব-১৪২২। এ পিঠা উৎসবে ছিল মোট ৩৩টি স্টল। এসব স্টলে ১৬৮ ধরনের পিঠা ছিল।

প্রিয় ভিজিটর, আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে? আপনাদের মনে যদি প্রশ্ন থাকে এ আর্টিকেল সম্পর্কে। তাহলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল enzymerony সাবস্ক্রাইব করুন।

গ্রহাণুবলয় কী, মূল্যবান ধাতু ও সম্পদে ভরপুর গ্রহাণুবলায়

গ্রহাণুবলয় কী, মূল্যবান ধাতু ও সম্পদে ভরপুর গ্রহাণুবলায়

গ্রহাণুবলয় কী? কিভাবে গ্রহাণুবলায় সৃষ্টি হয়?

আমাদের এই সৌরজগৎ অনেক রহস্যে ভরা। সৌরজগতের এক বিচিত্র সদস্য হচ্ছে গ্রহাণু। সূর্য থেকে মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে  2.2 এবং 3.3 A.U. দূরত্বের মাঝে, একটি বলয় সৃষ্টি করে হাজার হাজার বড় ছোট পাথরের খন্ড সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলতে থাকে। ইহাই গ্রহাণু (Asteroid)। এসব গ্রহাণুর বলয়টিকে বলা হয় গ্রহাণুবলয় (Asteroid Belt)। বলয়টির বেধ প্রায় 10 কোটি কিলােমিটার এবং প্রস্থ প্রায় 20 কোটি কিলােমিটার। বলয়টি এতটাই বিস্তৃত যে গ্রহাণুগুলির দূরত্ব সূর্য থেকে কোটি কোটি কিলােমিটার।

এই গ্রহাণু গুলি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে, এই আবিস্কারের ইতিহাসটি অতি বড় চমৎকার। শুক্র, বুধ, মঙ্গল, শনি ও বৃহস্পতি এই পাঁচটি গ্রহের কথা আদিকাল থেকেই মানুষের জানা ছিল। আমাদের এই পৃথিবীর মানুষ গুলো কখনোই বিশ্বাস করতে চাইতেন না যে এই পৃথিবীও একটি গ্রহ। পৃথিবী গ্রহ হিসাবে স্বীকৃতি পায় সপ্তদশ শতকের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে। ইউরেনাস গ্রহটি আবিস্কৃত হয় 1781 খ্রিষ্টাব্দে। কিন্তু, এই গ্রহটি আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত বুধ থেকে শনি – এই ছয়টি গ্রহের কথাই মানুষের জানা ছিল। সূর্য থেকে গ্রহ গুলির দূরত্ব কত এর মাপ গুলো জানা ছিল। এখানে উল্লেখ্য, সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব চৌদ্দ কোটি ছিয়ানব্বই লক্ষ কিলােমিটার, মঙ্গলের দূরত্ব বাইশ কোটি ঊনআশি লক্ষ কিলােমিটার, বৃহস্পতির দূরত্ব সতাত্তর কোটি তিরাশি লক্ষ কিলােমিটার।

মূল্যবান ধাতু ও সম্পদে ভরপুর গ্রহাণুবলায়

এই পৃথিবীর ভূমি নয় এবার সম্পদের খোঁজে ছুটে চলছেন বিজ্ঞানীরা মহাকাশে। তবে শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য যে , বিজ্ঞানীরা মূল্যবান সম্পদের খোঁজে ছুটছেন মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহে। ধনী হওয়ার সহজ উপায় বের করছে নাসা । মঙ্গল ও বৃহস্পতি এই দুই গ্রহের মধ্যে রয়েছে একটি গ্রহাণুবলায় যা, ভর্তি রয়েছে সোনা , লোহা , ও নিকলের মতো মূল্যবান ধাতু যার মূল্য প্রায় ৭শ কুইন্টাল অন মার্কিন ডলার । অর্থাৎ ৭ এর পর ২০ টা শুন্য । হিসেবের নিরক্ষতা এটাই যে , পৃথিবীর ৭ বিলিয়ন মানুষ প্রত্যেকেই আয় করে নিতে পারে ১০০ বিলিয়ন মার্কিণ ডলার যার ফলেই সকলেই হয়ে উঠতে পারবে কোটিপতি ।

খনন অভিযানঃ

এ খনন অভিযানের দায়িত্বে আছেন উপ স্পেস ইন্ড্রাস্ট্রিজ। যে সংস্থার কাজই মহাকাশে এই ধরনের খনিজ সম্পদে পরিপুর্ণ গ্রহাণুবলায় এর কাজ অনুসন্ধান করা এবং পরে সেখানে খনন কাজ চালানো । ডি. এস. আই ক্যালোর্ফোনিয়া নাসার বিজনেস পার্কে অবস্থিত চুক্তির ভিক্তিতে কাজ করে নাসার সঙ্গে । এছাড়া এর আগে নাসার ডন জাপান এরো স্পেস এজেন্সি এর প্রসেট্রা খনিজ পদার্থের ভরপুর একাধিক গ্রহণুবলায় এর অভিযান চালিয়েছেন । কিন্তু এই সবটুকু অভিযানের ব্যায় ‍নির্বাহ হয়েছিল সরকারি তহবিল থেকে । এদের থেকে প্রযুক্তি এবং কৌশলের প্রয়োগ একটু হলেও আলাদা ডি-এস আই ।

তাদের গ্রহাণু অভিযানের সময় ও অর্থ দুই- বাড়ছে স্ট্রিরয়েট মাইনিং অর্থাৎ গ্রহাণুবলায়ে খনন অভিযান অনেকটাই সাশ্রয় হয়েছে এই ডি, এস, আই এর কল্যাণে । বর্তমানে চলছে সেরা লোকেশন বাছাই এর কাজ স্থান নির্বাচন হয়ে গেলেই চলবে বিশেষ রোবটিক মহাকাশ অভিযান শুরু করবে সম্পদ আরোহনের কাজ । রয়াল এস্ট্রোনোমিক্যাল  সোসাইটির প্রেসিডেন্ট জার্নীকির মতে প্রথমে এই গ্রহাণুবলায় খনন অভিযান কল্পোবিজ্ঞান হলেও আজ তা পরিক্ষিত সত্য । আগামি দশকের মধেই হবে অভিযান । এবার ভূগর্ভ ছেরে মহাকাশে খনিজের খোঁজ চালাবে মানুষ । ক্রমশ বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও বিপুল চাহিদা মেটাতে মানবজাতির ভরসার অবকাশ এখন মহাকাশ।

প্রিয় ভিজিটর, এই পোস্টটি আপনাদের কেমন লেগেছে? এই আর্টিকেল সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত থাকলে, তা অব্যশই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনারা পরবর্তীতে কী ধরণের পোস্ট চান, তাও জানাবেন। আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি যদি এখনও সাবস্ক্রাইব করে না থাকেন, তাহলে অব্যশই সাবস্ক্রাইব করবেন।

বজ্রপাত কোন দেশে বেশি হয় এবং বজ্রপাত থেকে রক্ষার উপায়

বজ্রপাত কোন দেশে বেশি হয় এবং বজ্রপাত থেকে রক্ষার উপায়

বর্জ্রপাত নিয়ে অজানা তথ্য ও রক্ষার উপায়

 বলা যায় পৃথিবীরসৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আজ পর্যন্ত তাদের অস্তিত্ব কে ধারন করে রেখেছে । সভ্যতার সূচনা লগ্নে পৃথিবীতে ভবন ছির খুব দূর্বল । পরবর্তিতে অর্থাৎ, আধুনিক যুগে আজ পর্য্ন্ত মানুষ বিভিন্ন ধরনের বিপদ বৈরি আবহাওয়া থেকে রক্ষাপাওয়ার মতো ভূ- অবস্থান তৈরি রেখেছে ।

প্রযুক্তি উন্নয়নে প্রকৃতি বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি আবহাওয়া জনিত জরুরি পূর্বাভাস পাওয়া শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং অবস্থা অনুযায়ি কৌশল অবলম্বনে প্রাকৃতিক দূর্য্গ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিমাবদ্ধতা থেকেই যায় । মেঘ বৃষ্টির সাথে হঠাৎ করেই যে ভংকর অবস্থার সৃষ্টি হয় তার নামই বজ্রপাত । সমপ্রতি বছর গুলোতে এর ব্যপকতা বিষয় কে বিবেচনাই নিয়ে বজ্রপাতকে একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বজ্র নিয়ে প্রাচিন কাল থেকেই মানুষের মাঝে নানান ধরনের লোক কথা ও কিছু ধারনা প্রচলিত আছে  তার কারন হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ধারনা করা হয় যেঃ-

অনেকেরই ধারনা মেঘে-মেঘে ঘর্ষণের ফলেই সৃষ্টি হয় বজ্রপাত তবে, এটি মেঘের কারনে হলেও প্রকৃতি অর্থে বিষয়টি এমন নয় । যে কোন বিষয়ই মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাধারা পেরিয়ে যুক্তিসঙ্গত প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনই বিজ্ঞানের কাজ । তাই বজ্রপাতের রহস্য নিয়ে বিজ্ঞানিরা আধুনিক ব্যখ্যা প্রদান করেছে-

স্বাভাবিক ভাবেই পানি চক্রের নিয়মে জলাশয়ের পানি বাষ্পভূত  হয়ে আকাশে মেঘের সৃষ্টি হয় । এই মেঘেই বজ্রপাতের ব্যাটারি বা জাউক্রয়েরে উপরের অংশকে পজিটিভ এবং নিচের অংশে নেগেটিভ চার্জের সৃষ্টি হয়ে বৈদ্যতিক চার্য্ এর আধারের মতো আচারন করে ।

বজ্রপাত

কিভাবে বজ্রপাত এর সৃষ্টি হয়ঃ

মেঘ বৃষ্টিতে পানির কনা বা স্তর ৫ মি.লি মিটারের বেশি হলে অনুগুলো বন্ধন ধরে রাখতে পারে না এবং পরস্পর পৃথক হয়ে যায় । পানি চক্রে পানির কনা ক্রমশ উপরের দিকে উঠতে থাকে মেঘের পুরত্ব বৃদ্ধির সাথে নিচের অংশে বৃষ্টি বা তুষার কনার সাথে সংঘর্ষ ঘটার ফালে উর্দ্ধমুখি বাষ্প কনা বেশ কিছু ইলেকট্রন হারায় । এবং এই মূখ্য ইলেকট্রন মেঘের নিচের পৃষ্ঠে জমা হয়ে নেগেটিভ চার্জ এবং হারানো বাষ্প কনা উপরের পৃষ্টে জমা হয়ে পজিটিভ চার্জ সৃষ্টি করে ।

ঠিক এভাবেই মেঘগুলো শক্তিশালি ক্যাপাসিটর তৈরি বা ধারকের বৈশিষ্ঠ লাভ করে । আবার মেঘের উপর বা নিচের স্তরে তারতম্যের কারনে সেখানে শাক্তশালি বিদ্যুৎক্ষেত্র তৈরি হয় । যার শক্তি নির্ভর করে মেঘের সাথে সঞ্চিত চার্জের পরিমানের উপর । মেঘের এই শক্তি শালি বিদ্যুৎক্ষেত্র চারপাশের বাতাশের অপরিবাহি ধর্মকে নষ্ট করে দেয় ।

বিদ্যুৎক্ষেত্র যখন যথেষ্ট শক্তিশালি হয় তা প্রতি ইঞ্চিতে প্রায় ১০০০০ ( দশ হাজার ভোল্টের মতো চাপের সৃষ্টি করে ।। এমন অবস্থায় আশেপাশের বাতাস আয়োনিত হয়ে পজিটিভ এবং নেগেটিভ চার্জে বিভক্ত হয়ে পরে । বাতাসের এই অবস্থা প্লাজামা নামে পরিচিত ।

বজ্রপাতে স্ফলিঙ্গ সৃষ্টিঃ

এখানে আরেকটি বিষয় হলো বজ্রপাতে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি । স্ফলিঙ্গ সৃষ্টি বিষটি রসায়ন শাস্ত্রে জারন বিজারন নামে প্রক্রিয়ার সাথে সমপৃক্ত । জারন প্রক্রিয়ায় কোন ধাতব উপাদানের সাথে অক্সিজেন ক্রিয়ায় ইলেকট্রন নির্গমন ঘটে । বজ্রপাতের সময় বাতাসে প্লাজামা অবস্থা পরিবাহি পদার্থের মতই আচারন করে এবং অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়ায় অতি তিব্র সম্পন্ন স্ফলিঙ্গ সৃষ্টি করে lightning detector.

তাই এটা প্রকৃতিতে ওয়েলডিং এর মোতই কাজ করে । বজ্রপাতের সময় এই স্ফলিঙ্গ আমরা আগেই দেখি এ সময় বাতাসের সংকোচন ও প্রসারনে বিকট শব্দ শোনা যায় ।

বজ্রাঘাতে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণির মৃর্ত্যু কেন ঘটেঃ

মেঘমল্লারে যে ছোট ছোট আলোর ঝলকানি দেখতে পাই তা আসলে মেঘের উপরের অংশ থেকে নিচের অংশে বৈদ্যুতিক চার্জের নির্গমন থেকে সৃষ্টি হয় বজ্রপাতের উপর্য্ক্ত মেঘবরাবর বা পরিধির মধ্যে ভূ-পৃষ্ঠে কোন মানুষ বা প্রণীর দেহ যদি বিদ্যুৎ পরিবহনের পথে পরিনত হয় তখন উচ্চ শক্তি সম্পন্ন বিদ্যূদতের প্রভাবে তার মৃর্ত্যু ঘটে । এই বিদ্যুৎ অন্যকোন কনডাক্টার বা ধাতু মাধ্যমে ভুমিতে চলে গেলে প্রাণি বা উঁচু গাছপালা রক্ষা পায়।

বজ্রপাতে মৃর্ত্যু

কোন কোন মাসে সবচাইতে বেশি বজ্রপাত ঘাটেঃ

স্যাটেলাইট থেকে নেয়া তথ্য বিশ্লেষন করে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ম্যারিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনায় বেরিয়ে এসছে যে সারা বিশ্বের মধ্যে মার্চ-মে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে ।

 

বিশ্বের মধ্যে সবচাইতে ঝুকিতে বাংলাদেশের কোন জেলা গুলিঃ

ভৌগলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ঠের কারনে ,বৃহত্তর  সিলেট ও হাওর এলাকাগুলো সহ দেশের পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাতের পরিমান প্রাকৃতিগত ভাবেই অনেক বেশি । নাসা ও ম্যারিলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ি এশিয়ায় বজ্রপাত প্রবন অঞ্চলের মধে বাংলাদেশের নোয়াখালি ৫ম অবস্থানে আছে । সম্প্রতি কয়েক বছরগুলিতে জলবায়ুর পরিবর্তন ও বৈরি আবহাওয়া জনিত কারনে দেশের মধ্য অঞ্চলে বজ্রপাতের পরিমান বেড়েছে ।

কিভাবে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়ঃ

এখন পর্যন্ত বজ্রপাতের জান্য আলাদা কোন সতর্কতার সংকেতের পদ্ধতি চালু হয় নি  সাধারণত আবহাওয়া বার্তার সাথেই বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথা বলা হয়ে থাকে । বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষাপাওয়ার জন্য আমাদের নিরাপদ স্থানে আস্রয় নেওয়া ও দূর্য্গ সতর্কতা বিষয়গুলি মেনে চলা সবার মাঝে সচেতনতা জরুরি । এছাড়াও বজ্রপাত এর মাত্রা অনেকাংশেই কমিয়ে দিতে সাহায্য করে তালগাছ। তাল গাছ বজ্রপাতের মাত্রা কমিয়ে দেয় বা বজ্রপাত মোকাবেলাতে সক্ষম । সুতরাং আমাদের উচিত বেশি বেশি করে তালগাছ রোপন করা। বজ্রপাতে মানুষের মৃর্ত্যু ঝুকি কমাতে সরকার ১০০০০ ( দশ হাজার  ) উপযুক্ত গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে । এ ছাড়াও তৈরিকৃত ভবণগুলাতে বজ্রপাত প্রতিরোধক দন্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক করেছে ।

সুতরাং আমাদের উচিত প্রাকৃতিক বনজ সম্পদকে উজার না করে বরং আমরা আরও বেশি করে বৃক্ষ রোপন করে প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর হাত থেকে নিরাপদ থাকি ।

আমাদের তথ্য সমৃদ্ধ অন্যান্য পোস্ট সমূহের লিংক আপনার জন্য শেয়ার করা হল।  সম্মানিত পাঠকবৃন্দ পোস্ট আপনার কেমন লাগল এবং আপনার কাছে যদি আরো সুন্দর মতামত থাকে তবে নিচের কমেন্ট এর মাধ্যমে অব্যশই শেয়ার করবেন।

Garo Hills and Gopalpur border, Durgapur

History of Mahasthangarh and tourist place

Notice regarding the completion of second year 2nd Semester Examination Form for BBA in Aviation Management in 2018

Notice regarding the completion of second year 2nd Semester Examination Form for BBA in Aviation Management in 2018

২০১৮ সালের বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট দ্বিতীয় বর্ষ ২য় সেমিস্টার পরীক্ষার ফরম পূরণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

প্রিয় বন্ধুরা,
আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন, আপনাদের জন্য আজকের নতুন বিজ্ঞপ্তি, এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছেন। এই বিজ্ঞপ্তিটি নিম্নোক্ত ডাউনলোড লিংক হতে সরাসরি ডাউনলোড করতে পারবেন।

বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট দ্বিতীয় বর্ষ ২য় সেমিস্টার পরীক্ষার ফরম পূরণ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তিটি এই ডাউনলোড লিংক হতে ডাউনলোড করে নিন।

Downlink Here…

এতদ্বারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো যাচ্ছে যে, বিবিএ ইন এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট প্রথম বর্ষ ২য় সেমিস্টার পরীক্ষা-২০১৮ এর ফরম পূরণ নিম্নবর্ণিত তারিখ অনুযায়ী Online-এ সম্পন্ন হবে। পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে। উক্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের আবেদনফরম, বিবরণী ফরম ও ফি জমাদানের তারিখ, নিয়মাবলী ও শর্তাবলী নিম্নে নোটিশে প্রদত্ত হলোঃ
ডাউনলোড লিংক হতে সরাসরি ডাউনলোড করে নিনঃ

প্রিয় শিক্ষার্থী, সবসময় এরকম নোটিশ ও তথ্য পেতে আমাদের সাথে থাকুন ও নিয়মিত ভিজিট করুন Study Based ওয়েবসাইট। যাতে কোন নোটিশ এবং তথ্য সমুহ মিস না করেন।
আমাদের উৎসাহিত করতে নিম্ন দেওয়া কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুনঃ

15 + 4 =

Garo Hills and Gopalpur border, Durgapur

Garo Hills and Gopalpur border, Durgapur

গারো পাহাড় ও গোপালপুর সীমান্ত, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা

আঁকাবাকা পথ ঘন সবুজ গারোপাহাড় ছোট ছোট টিলা আর নদী দ্বারা বেষ্টীত প্রাচুর্য্ময় জনপদ নেত্রকোণার দূর্গাপুর ।
অনেক দূর থেকে তাকালে মনে হয় যেন ঘন কালো মেঘ আকাশ আর মাটির সাথে মিশে আছে সেই কবে থেকে মিতালি করার জন্য।

মেঘালয় সিমান্তের কোল ঘেসে দারিয়ে প্রাচিন জনপদেরে এক অনন্য নিদর্শন এখানে রয়েছে ক্ষুদ্র –নৃ- গোষ্ঠির বিচিত্র রকমের জিবনধারা যা প্রকৃতির এক অপার হাতছানি । আমাদের ব্যস্ত ও কোলাহোল পূর্ন জীবন থেকে হারিয়ে নিঝুম শান্ত এই পকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার এ – এক অনন্য উৎকৃষ্ট জায়গায় গারো পাহাড় ও এর আশেপাশের এলাকা।

tour Garo Hill

গারোপাহারের অবস্থান : গারোপাহাড় অবস্থিত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো ও খাসিয়া পর্বত মালার একটি অংশ । এই পর্বত মালার কিছুটা অংশ ভারতের আসাম রাজ্য ও বাংলাদেশের শেরপুরের নালিতা বাড়ি উপজেলায় অবস্থিত ।

এছাড়াও বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জে ও আছে এর কিছুটা অংশ নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুরের সমস্ত উত্তর দিকটা জুরেই রয়েছে গারোপাহাড় । ঐ সব পাহাড়ের অধিকাংখশ অবস্থানই ভারতের সিমানাই অবস্থিত । আর বাংলাদেশের সিমানাই রয়েছে ছোট , বড় , অসংখ্য পাহাড়ি টিলা ।

Garo Hills

এসব টিলায় চরে দেখা যায় বিরাট বিরাট পাহাড় কিছু কিছু পাহাড় গরিয়ে নিচের দিকে নেমে এসেছে ঝর্নার মতো স্বচ্ছ জলধারা । এই জলধারার জলই স্থানিয় জনগোষ্ঠির জলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম ।

পাহাড় দেখার সুবিধা জনক স্থান :
• রানিখং
• ভবানিপুর
• আরাপুর
• গোপালপুর
• কালিকাপুর

বিভিন্ন উপজাতির বাস :
দূর্গাপুরের বিড়িসিরি ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আদিবাসি যেমন –
1. গারো
2. কৌজ
3. হাজং
4. ও বানায় প্রভৃতির আদিবাসির বসবাস ।

আদিবাসিদের জিবনধারা : বিভিন্ন উপজাতি আদিবাসিদের বাড়ি সমতলে আবার কারো বাড়ি টিলার উপর । গারোপাহাড়ের বিরুপ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ সংগ্রাম করে এদের বসবাস । যেমনঃ

I. গ্রামে গারো পরিবারের বাড়িতে ঢুকলে দেখা যায় গারো নারিরা ঘরে নেই তারা গ্রামের জঙ্গলে ঢুকে লাকড়ি সংগ্রহ করছে ।
II. কেউবা কাধে সন্তান ঝুলিয়ে মাঠে কাজ করছে ।
III. গারো সমাজ কাঠামোতে রয়েছে নারি স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ঠ মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ।
IV. ঘর ,গৃহস্থলি , কয়লা ও পাথর উত্তোলন সহ পরিবার পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই নারির একচ্ছত্র ভূমিকা পালন করে থাকেন ।

Garo Mountain foothill

দর্শনিয় স্থান : পাহাড়ি টিলার সর্ব উপরে রয়েছে খ্রীষ্টধর্মালম্বিদের তীর্থ স্থান রানিখং মিশন । এই মিশনের খুব কাছেই রয়েছে হাজংমাতার রাসমনির স্মৃতিসৌধ । গারোপাহাড় বেয়ে ঝর্নার মতো নেমে আসা সমিশ্বরি নদী বর্ষায় রাক্ষসি রুপ নেয় ভাসিয়ে দেয় বির্স্তিন জনপদ ।

ভরা মৌসুমে নদীর বুক জুরে থাকে বিশাল জলরাশি গারো পাহাড়ের এসব দৃশ্য পরিচয় করে দেয় বৈচিত্র ময় এক জিবন ধারার ।তাই চলুন এই কর্মব্যস্ততার মাঝে একটু সময় বের করে ঘুরে আসা যাক সৌন্দের্য্র অপর লিলা ভূমি গারো পাহাড়ে ।

বন্ধুরা এরকম দেশের দর্শনীয় ও পর্যটক আর্কষণীয় স্থান সম্পর্কে জানতে আমাদের Study Based সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এই আর্কষণীয় স্থানটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।

আমাদের দেশের আরো দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানুন নিচের পোস্ট থেকে।

মহাস্থানগড় ও তার আদি ইতিহাস

https://www.studybased.com/history-of-mahasthangarh-and-tourist-place/