Sajek Valley

Sajek Valley

সাজেক ভ্যালি(Sajek Valley) অতি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে অতি প্রিয় গন্তব্য স্থল সাজেক। এটি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটির জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসেবে খ্যাত। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে সাজেকের উচ্চতা 1800 ফুট উঁচু। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার হলেও এটি খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে অনেক কাছে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই সহজ। দীঘিনালা থেকে সাজেক এর দূরত্ব মাত্র 40 কিলোমিটার এবং খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। আপনি যদি সত্যিকারে সাজেকে যেতে চান, তাহলে বাঘাইহাট থেকে আর্মি ক্যাম্প অথবা পুলিশ ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিতে হবে।

সাজেকে গিয়ে কি কি দেখতে পাওয়া যাবে?

সাজেকের(sajek valley resort) চারপাশে মনমুগ্ধকর পাহাড়ের সারি এবং সাদা তুলার মত মেঘের ভেলা আপনাকে মোহিত করবেই। সাজেক খুবই আশ্চর্যজনক স্থান তাই একই দিনে প্রাকৃতিক তিন রকম রুপের ছোঁয়ায় আপনাকে চমৎকৃত করবে। কখনো আপনার চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাবে কখনো গরম অনুভূত হবে হয়তোবা হঠাৎ হঠাৎ আপনি বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন। এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড় তুলার মত মেঘের পুরো খেলা দেখতে পারবেন।

সাজেকে ভ্রমণে আসা ভ্রমণ প্রেমিকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে কঙ্কাল পাহাড়। সাজেক ভ্যালি কংকাল পাড়া গ্রামের লুসাই জনগোষ্ঠী দ্বারা অধ্যুষিত হচ্ছে এলাকাটি। আমাদের দেশের কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের লুসাই পাহাড় টি এই কঙ্কাল পাড়া গ্রাম থেকে দেখা যায়। যদি কমলোক ঝরনা দেখতে চান তাহলে রুইলুই পাড়া থেকে আপনাকে 2 ঘণ্টার ট্রেকিং করতে হবে। অনেকের কাছে সুন্দর ঝর্ণাটি সিকাম তৈশা বা পিদাম তৈসা নামে পরিচিত।

শিল্পীর তুলিতে আঁকার মতোই সাজেক ভ্যালি আপনার কাছে দিনে অথবা রাত অপরূপ মনে হবে। সময় গড়ে যাচ্ছে তবুও সাজেক যেন দিন দিন আরো নতুন হয়ে উঠছে। সাজেকে গেলে অবশ্যই সকালের সূর্যোদয় এবং মেঘের খেলা কখনো মিস করবেন না। কারণ এই সময়টাতে মেঘের খেলা এবং সূর্য উদয় ঘটে। তাই এই খেলাটি দেখতে হলে অবশ্যই আপনাকে খুবই ভোরে উঠতে হবে এবং এর জন্য রওনা দিতে হবে হেলিপ্যাডে। কারণ এই জায়গা থেকে সূর্য উদয় খুবই সুন্দর ভাবে দেখা যায়। যদি সূর্যাস্তের রঙ্গিন রূপ দেখতে চান তাহলে অবশ্যই সাজেকের কোন উঁচু স্থান থেকে দেখতে হবে। যদি রাতের আকাশের কথা বলি তাহলে সন্ধ্যার পর আকাশে কোটি কোটি তারার মেলা আপনাকে বিমোহিত করবে। রাতের আকাশ যদি পরিষ্কার থাকে তাহলে দেখতে পাবেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ। পাহাড়ি অঞ্চলের আদিবাসীদের যদি জীবনযাত্রার মান দেখতে চান। তাহলে আপনাকে চারপাশটা ঘুরতে হবে তাহলে আদিবাসী মানুষের সান্নিধ্য আপনাকে অনেক ভালো লাগবে। যদি হাতে আরো অনেক সময় থাকে তাহলে সাবেক থেকে ফেরার পথে আরো ঘুরে আসতে পারেন দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ দীঘিনালা বন বিহার এবং হাজাছড়া ঝর্ণা।

কখন সাজেক ভ্রমণের উপযুক্ত সময়?

বর্ণিল সাজে সারা বছরই সাজেক সাজিয়ে থাকে তাই সাজাকের রূপের তুলনা হয় না। বছরের প্রতিটি সময়ে আপনি সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন তবে শরৎ, বর্ষা ও হেমন্তে সাজেকের চারপাশে মেঘের খেলা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তাই সাজেক ভ্রমণের এটাই সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত সময়।

সাজেকে যাওবার সহজ উপায়?

যেহেতু খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা থেকে সাজেকের দূরত্ব খুবই কম তাই আপনি তাড়াতাড়ি যাবার জন্য খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে যাবেন। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার হলেও এটি রাঙ্গামাটি থেকে প্রায় অনেক কিলোমিটার দূরত্বে। এজন্য প্রথমে খাগড়াছড়ি আসতে হবে। আপনি যে কোন জেলার ই হোন না কেন। আমি ঢাকার কথা বলব ঢাকা থেকে প্রায় অনেকগুলো বাস পাওয়া যায় তার মধ্যে শান্তি পরিবহন, শ্যামলী, এস আলম পরিবহন, ঈগল পরিবহন এবং সৌদিয়া পরিবহন বাস উল্লেখযোগ্য। এসি নন এসি বাসের পার্থক্য অনুসারে ভাড়ার পার্থক্য হয়ে থাকে। নন এসি বাসের ভাড়া প্রায় পাঁচ শত বিশ টাকা ও এসি বাসের ভাড়া 700 টাকা। এসি বাসের মধ্যে বিআরটিসি এবং সেন্টমার্টিন পরিবহন খুবই ভালো। এসব বাসের কাউন্টার ঢাকা গাবতলী কলাবাগান সহ বিভিন্ন প্রান্তে এসব বাস কাউন্টার রয়েছে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক এর মোট দূরত্ব মোটামুটি 70 কিলোমিটার। সাজেক ভ্যালি যেতে তাদের গাড়ি অথবা জিপ গাড়ি ভাড়া নিয়ে যেতে পারেন। আসা যাওয়া থেকে শুরু করে দুই দিনের মোট ভাড়া নিবে 8000 থেকে 10000 টাকা। তবে একটি গাড়িতে আপনারা মোট 12 থেকে 15 দিন যেতে পারবেন। যদি আপনাদের লোক কম হয় তাহলে অন্য গুরুপের সাথে কথা বলে শেয়ার করে গাড়ি নিলে আপনাদের খরচ অনেক কম পড়বে। যদি তাও সম্ভব না হয় তাহলে সিএনজি দিয়ে সাজেকে যেতে পারেন সে ক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে ৪০০০ থেকে 5 হাজার টাকা। কিন্তু পাহাড়ের রাস্তা অনেক উঁচু নিচু হওয়ার ফলে সিএনজি দিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো।

আপনারা যদি দুই-তিনজন হয়ে থাকেন তাহলে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর থেকে অনেক গুরুপ পাওয়া যায়। সেসব গুরুপের সাথে কথা বলে তাদের গাড়ি শেয়ার করতে পারেন অথবা জীব সমিতির সাথে কথা বললে উনারা যে কোন গুরুপের সাথে ম্যানেজ করে দেবে।

প্রথমে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি গিয়ে সেখান থেকে দীঘিনালায় গিয়ে তারপর সেখান থেকে সাজেকে যেতে পারবেন। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার ভাড়া বাসে মাত্র 35 টাকা এবং মোটরসাইকেলে যদি যান তাহলে জনপ্রতি 100 টাকা করে লাগবে। কারণ খাড়াছড়ি থেকে দিঘীনালার দূরত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। যদি কারো সাথে ভাড়া শেয়ার করতে না পারেন অথবা আপনার সামর্থ্য থাকে। তাহলে একাই মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে সাজেক ঘুরে বেড়াতে পারেন। তবে যে কোন গাড়ি ঠিক করার আগে কোন জায়গা গুলো ঘুরে দেখবেন এবং আপনার পুরো প্লান গুলো আগে থেকে ঠিক করবেন তারপর গাড়ী ঠিক করবেন। আপনাকে সবসময় মনে রাখতে হবে আপনি যে জায়গা থেকে যান না কেন।

আপনাকে দীঘিনালায় দশটার আগেই পৌঁছাতে হবে। কারণ বাকি রাস্তা নিরাপত্তার জন্য সেনা বাহিনীর এসর্কোটে গিয়ে এসর্কোট গ্রহণ করতে হবে। সেনাবাহিনীর দিনে মাত্র দুই বারই এসর্কোট দিয়ে থাকেন। একবার হচ্ছে সকাল দশটায় এবং আরেকবার বিকালের দিকে। তাই মিস করলে আপনাকে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু যদি বিকেলের তাও মিস করেন, তাহলে পরের দিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই এসর্কোট ছাড়া কোনভাবেই ওই জায়গায় যাওয়ার অনুমতি পাবেন না। দিঘীনালা ঘুরে দেখার পর যদি হাতে সময় পান তাহলে হাজাছড়া ঝর্ণা ঘুরে দেখতে পারবেন। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে সাজেকে যেতে আপনার সময় লাগবে দুই থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা।

 

আরো পড়ুনঃ

 

Coxsbazar sea beach

Coxsbazar sea beach

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত(Coxsbazar sea beach) বাংলাদেশ

কখনো যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কোনটি? তাহলে আপনি উত্তর দেবেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত হলো কক্সবাজার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আর্কষণীয় পর্যটন স্থান হলো কক্সবাজার। সময়ের সাথে প্রকৃতি বদলে যায়। বিশাল এই সাগর সৈকত দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এ এবং সূর্যাস্তের মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ রাখে। এই সৈকতটি প্রায় 120 কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত।

কখন কক্সবাজার ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়?

ভ্রমণ প্রেমীরা ভ্রমণ করার জন্য সাধারণত শীতকালই বেছে নেন। কিন্তু কক্সবাজার এমন একটি আকর্ষনীয় পর্যটন স্থান যেখানে শীতকাল ছাড়াও আপনি যে কোন সময় আসতে পারেন। সময়ের সাথে প্রকৃতি বদলে যায়। ঠিক এই প্রকৃতির সুন্দর রুপের প্রভাব বিরাজ করে এ কক্সবাজারেও। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে এই সুন্দর পূর্ণিমা রাতে অবশ্যই আপনাকে মুগ্ধ করবেই। তাই শরৎ এর নিঝুম বরর্ষায় অথবা শরৎ এর নীল আকাশের সাথে বন্ধুত্বের মিতালী নিয়ে আপনি চলে আসতে পারেন এই কক্সবাজারে। প্রিয় ভ্রমণ প্রেমী, যদি আপনি শীতকাল ছাড়া অন্য কোন সময়ে কক্সবাজার যেতে চান। তাহলে আপনি দুইটি সুবিধা পাবেন। একটি হলো যেকোনো হোটেলের ভাড়া অনেক কম সেই সাথে অন্যান্য দূর্বাদির দাম খুবই কম। তাই আপনার ভ্রমণের বাজেট যদি খুবই কম হয়ে থাকে এবং আপনার ভ্রমণ এর শখ থেকে থাকে তাহলে আপনি শীতকাল ছাড়া অন্য কোন সময়ে কক্সবাজারে আসতে পারেন।

বাস দিয়ে কিভাবে কক্সবাজার যাওয়া যাবে?

আপনার এলাকা থেকে ঢাকা আসার পর। আপনি ঢাকা থেকে রেলপথ, আকাশ পথ এবং সড়ক পথে কক্সবাজার যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে কক্সবাজার গামী বিভিন্ন ধরনের বাস পাওয়া যায়। তার মধ্যে রয়েছে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এর আলম মার্সিডিজ বেঞ্চ, হলদিয়া, শ্যামলী পরিবহন, এস আলম, সোহাগ পরিবহন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বাস গুলোর শ্রেণীভেদে যেমন এসি নন-এসি ইত্যাদির উপর নির্ভর করে প্রতিটি সিট এর ভাড়া 900 টাকা থেকে 2000 টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কিভাবে যাবেন?

অনেকেই ট্রেনে ভ্রমণ করতে খুবই ভালবাসে। তাই কক্সবাজার যাওয়ার পথে আপনি চাইলে ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার যেতে পারবেন। এ জন্য আপনি কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেল স্টেশন হইতে সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা, তূর্ণা নিশিথ অথবা মহানগর প্রভাতী। এছাড়া রয়েছে গোধূলি তাছাড়া চট্টগ্রাম মেইলেও আপনি যাত্রা করতে পারবেন খুব সহজেই। চট্টগ্রামে ট্রেন থেকে নামার পরে নতুন ব্রিজ নামক এলাকা অথবা দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে হানিফ, এস আলম, ইউনিক এছাড়াও আপনি বিভিন্ন নামের বাস পেয়ে যাবেন। এসব বাসের কোয়ালিটি অনুসারে বাসের ভাড়া 280 টাকা থেকে 550 টাকার মধ্যেই হবে।

ঢাকা থেকে কিভাবে বিমানে কক্সবাজার যাওয়া যায়?

যারা বিমানে ভ্রমণ করতে চান সেসব ভ্রমণ প্রেমিকদের জন্য। আপনার এলাকা বা বাসা থেকে ঢাকা আসার পরে আপনাকে আসতে হবে ঢাকা এয়ারপোর্ট। এয়ারপোর্ট থেকে চট্টগ্রামগামী বেশ কয়েকটি বিমান পাওয়া যায়। সে সব বিমানের মধ্য হল নভোএয়ার, বাংলাদেশ বিমান, ইউ এস বাংলা ইত্যাদি সহ বেশ কিছু বিমান সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দর হইতে কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকেন। আকাশ পথে চট্টগ্রাম আসার পরে আপনি উপরে উল্লেখিত বাস এর মাধ্যমে কক্সবাজারে আসতে পারবেন।

কক্সবাজার আসার পরে কোন হোটেলে থাকবেন?

আপনি যদি আগে থেকেই হোটেল ঠিক না করে থাকেন। তাহলে কক্সবাজারে সরাসরি আসার পরে আপনি অনেক চিন্তায় পড়ে যাবেন। কোথায় ভালমানের হোটেল ও ভালো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তাই আপনার উচিত হবে আপনি যদি কোথাও ভ্রমন করতে চান আগে থেকেই হোটেল বুকিং দিয়ে রাখতে হবে। তাহলে সরাসরি গিয়ে হোটেলে উঠতে পারলেন এবং আপনার ভ্রমণ টা অনেক সুন্দর হবে। কক্সবাজারের উন্নতমানের হোটেল গুলো প্রায় পঞ্চাশটি হোটেলের তালিকা আমার একটি পোস্টে দেওয়া আছে। আপনি সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বুকিং দিতে পারবেন।

800 টাকা থেকে 3000 টাকার মধ্যে হোটেলঃ
ইকরা বিচ রিসোর্ট, মিডিয়া ইন, অভিসার, কল্লোল, নীলিমা রিসোর্ট, হানিমুন রিসোর্ট, উর্মি গেস্ট হাউস, কোরাল রিফ ইত্যাদি।

3000 টাকা থেকে 6000 টাকার মধ্যে হোটেলঃ
নিটোল রির্সোট, সী প্যালেস, কোরাল রীফ, সী গাল, আইল্যান্ডিয়া, ইউনি রির্সোট, বীচ ভিউ, সী ক্রাউন ইত্যাদি।

800 টাকা থেকে 3000 টাকার মধ্যে হোটেলঃ
ওশেন প্যারাডাইজ, মারমেইড বিচ রির্সোট, লং বীচ, সায়মন বিচ রির্সোট, কক্স-টুডে, হেরিটেজ ইত্যাদি।

ওপরে বর্ণিত মূল্যের চেয়ে আরো কম দামের হোটেল পাওয়া যায় এজন্য আপনাকে একটু আগে থেকেই খোঁজখবর নিতে হবে। তবে অফসিজনে হোটেলের থাকার মূল্যে সাধারণত এই দামের চেয়ে অর্ধেকেরও কম থাকে। তাই সময় থাকলে কক্সবাজারে নেমে দরদাম করে হোটেল নিলে অনেক ভালো হবে। আরো কম দামে রিসোর্টে থাকতে চাইলে আপনাকে কলাতলী বিচ থেকে আর একটু দূরে লং বিচ হোটেল আছে। তার সামনে উল্টোপাশের গলির ভেতরের দিকে হোটেলগুলোতে খোঁজ নিতে পারেন। তবে মেইন রোড ও বিচ থেকে যত দূরে যাবেন হোটেলের ভাড়া সাধারণতো আরও কমে যাবে। কিন্তু হোটেল খোঁজার ক্ষেত্রে কখনো সিএনজি ওয়ালা রিকশাওয়ালার পরামর্শ নেবেন না। প্রয়োজনে হোটেলের ফেসবুক পেজ এবং তাদের ওয়েবসাইট থেকে তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

আপনার পরিবার নিয়ে যদি আরেকটু স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে চান! তাহলে আপনাকে একটি ফ্লাট ভাড়া নিতে হবে। এজন্য এসি ও নন-এসি 3 থেকে 4 বেডরুম ও রান্নাঘর বিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাটের প্রতিদিন ভাড়া হতে পারে প্রায় দুই হাজার টাকা থেকে 15 হাজার টাকার মধ্যে। তাছাড়া নিজের পছন্দ ও সাধ্যমত ভালো একটি হোটেল বা রির্সোট পেতে আপনাকে একটু খোঁজাখুঁজি করতে পারেন।

বিচ ভিউ হোটেল কী?

বিচ ভিউ হোটেল মানে এসব হোটেল হোটেল এর রুম থেকে সমুদ্র সৈকত দেখা যায়। আমাদের মাঝে অনেকেই আছে তাদের ইচ্ছা হয় যে রুম থেকেই সমুদ্র সৈকত দেখা যায়। তাই অনেকে এরকম হোটেল খুঁজে থাকে। কিন্তু এরকম হোটেলগুলোর ভাড়া অনেক বেশি হয়ে থাকে। এজন্য আপনি কম ভাড়ায় থাকতে চাইলে আপনাকে কক্সবাজারে ডালসিজনে আসতে হবে। বীচ ভিউ হোটেল বাদেও আরো কিছু রির্সোট ও হোটেল আছে। যেমনঃ হোটেল সী ক্রাউন, সাইমান, নীলিমা বিচ ও প্রাসাদ প্যারাডাইস ইত্যাদি।

কক্সবাজার ভ্রমণে কি কি করবেন?

তপ্ত বালির বিছানা, সাগরের উত্তাল জলরাশি কিংবা ঝাউবনের সারি আকর্ষণ পর্যটকদের কাছে টেনে নেবে। সাগরের জলে রোদ্রস্নান করা, বেলাভূমিতে হাঁটাহাঁটি করা কিংবা সূর্য্যাস্থের নয়ন জুড়ানো দৃশ্য গুলো প্রতিটি ক্ষণেই দেবে মানসিক প্রশান্তি। যারা সমুদ্রে নামবে, নামার আগে সতর্ক থাকবেন এবং জোয়ার-ভাঁটার সময় জানতে হবেই। প্রিয়জনদের জন্য উপহার সামগ্রী কেনার জন্য বার্মিজ মার্কেট থেকে কেনা কাটা করতে পারেন, যদি আপনার হাতে সময় থাকে। সমুদ্রের সকল রূপ উপভোগ করতে চাইলে। আপনাকে অবশ্যই সূর্য উদয় ও সূর্যাস্তের সময়টুকু বিচে কাটাতে হবে। আপনি যদি আরো বিস্মিত হতে চান তাহলে ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সমদ্র সৈকত দেখতে হবে। যদি পূর্ণিমার রাতে যান তাহলে সন্ধ্যার পরের সময়টুকু সমুদ্র কাটাতে পারেন। আপনার সুন্দর মুহূর্ত গুলি ফ্রেমে বন্দি করে রাখতে চান, এজন্য আপনি ক্যামেরা সাথে নিয়ে যেতে পারেন। অথবা বিচ ফটোগ্রাফারদের শরণাপন্ন হতে হবে। স্পীডবোটের রাইডে যেতে চান, তাহলে ১০০ থেকে ২৫০ টাকার বিনিময়ে উত্তাল ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে সাগরে ঘুরতে পারবেন।

কি কি খাবার কক্সবাজারে পাওয়া যায়?

কক্সবাজারে মানুষের খাদ্য দ্রব্যের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন মানের ও ধরনের খাবার পাওয়া যায়। এর জন্য কক্সবাজারে খাবারের মানে ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। কক্সবাজারের বিভিন্ন ধরনের মধ্যম মানের রেস্টুরেন্ট রয়েছে সেগুলোর মধ্য হলো ঝাউবন, পৌষি, রোদেলা, ধানসিঁড়ি, নিরিবীলি অন্যতম। সিজনের সময় রেস্টুরেন্টগুলোর খাবারের মূল্য বেশি হতে পারে এবং অফসিজনে খাবারের দাম কম হতে পারে।

নিম্নে কিছু খাবারের তালিকা ও দাম দেওয়া হলো। ভাতের মূল্য 20 থেকে 40 টাকা প্লেট, মিক্সড ভর্তা টাকা 75 থেকে 300 টাকা (আট রকমের ভর্তা)। তাছাড়া লইট্যা ফ্রাই প্রায় 100 থেকে 120 টাকা থাকবে (ছয় থেকে দশ টুকরা) এর মূল্য 150 টাকা। গরুর মাংস 150 থেকে 200 টাকা 2 জন শেয়ার করে খেতে পারবেন। রান্না করা রুপচাঁদা ফ্রাই 300 থেকে 400 টাকা ও ডালের মূল্য ৩০ টাকা ৬০ টাকা। আপনি যদি হায়দ্রাবাদি বিরানি খেতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে লাবনী পয়েন্ট সংলগ্ন হান্ডি রেস্তোরাতে। প্রতি প্লেট বিরানির মূল্য মাত্র 200 থেকে 250 টাকা। তাছাড়া আশে পাশে কেওএফসিতে খেতে পারেন।

ভ্রমণ টিপস এবং ভ্রমণের সময় সর্তকতা সমূহঃ

1. যেকোন ধরণের সমস্যার সম্মুখিন হলে টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতা নিবেন। হটলাইন +০৮৮০১৭ ৬৯৬৯ ০৭৪০
2. বাজেট কম হলে অফসিজনে কক্সবাজার বেড়াতে যান
3. যাতায়াতের ভাড়ার ও যেকোন কিছু কেনাকাটার জন্য ঠিকমত দরদাম করে কিনবেন
4. রেস্টুরেন্টে খাবার আগে দরদাম করে খাবেন
5. হোটেল সম্পর্কে ভালো করে জেনে তারপর হোটেল ঠিক করুন
6. সাগরে নামার আগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ

কক্সবাজার ঘুরতে গেলে শুধুমাত্র সমুদ্র সৈকত নয়, আশেপাশের আরও বেশকিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে সেগুলো ঘুরে দেখবেন। সেজন্য আপনার নিজের সময় ও সুবিধা অনুযায়ী কক্সবাজার আসার পূর্বেই পরিকল্পনা করে নিন। কোন জায়গা গুলো ঘুরতে যাবেন। কক্সবাজারের আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য স্থান হলোঃ

১. মহেশখালী
২. সেন্টমার্টিন
৩. হিমছড়ি
৪. রামু বৌদ্ধ বিহার
৫. ইনানী সমুদ্র সৈকত
৬. রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড
আরো কম খরচে যদি কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চান তাহলে আমাদের এই ব্লগ পড়ুনঃ স্বল্প খরচে কক্সবাজার ভ্রমণ

 

আরো পড়ুনঃ

২০১৮ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০১৯

২০১৮ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০১৯

২০১৮ সালের ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০১৯

সম্মানিত শিক্ষার্থীবৃন্দ, আসসালামু-আলাইকুম। আপনাদের সকলের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে।  আপনাদের ২০১৮ সালের ডিগ্রি পাস এবং সার্টিফিকেট কোর্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষার শুরু হবে।  আগামী ২০/০৪/২০১৯ ইং তারিখ হইতে। যা নিম্নোক্ত তারিখ এবং সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হইবে। কিন্তু পরীক্ষার সময়সূচি চেন্জ করার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে থাকেন। এজন্য পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন অন্তত ৩ বেলা, যেমন সকাল, দুপুর, রাত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখিত ওয়েবসাইট ভিজিট করতে বলা হল।

২০১৮ সালের ডিগ্রির প্রথম বর্ষের পরীক্ষার রুটিন কিভাবে ডাউনলোড করা যায়?
ডিগ্রি প্রথম বর্ষের রুটিন ২০১৯ পিডিএফ ডাউনলোড করতে হবে। ডিগ্রি প্রথম বর্ষ অর্থাৎ,২০১৮ সালের যারা নিয়মিত/ অনিয়মিত এবং প্রাইভেট ছাত্রছাত্রীদের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার শুরু হবে। আগামী ২০-০৪-২০১৯ ইং তারিখে। এই বিজ্ঞপ্তিটি গত ২৭ মার্চে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছেন। এই ডিগ্রি প্রথম বর্ষ ২০১৮ সালের ডিগ্রি পাস এবং সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষা নিম্নোক্ত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

degree Exam routine 2019

ডিগ্রি পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ও নির্দেশনাবলী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর নিজস্ব ওয়েব সাইট www.nu.edu.bd এবং www.nu.edu.bd এ পেয়ে যাবেন।

ন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি ডিগ্রী প্রথম বর্ষের রেজাল্ট ২০১৯ কিভাবে দেখা যাবে?
মেসেজ এর মাধ্যমে ডিগ্রী রেজাল্ট ২০১৯ পেতেঃ
এসএমএস এর মাধ্যমে ডিগ্রি রেজাল্ট 2018 পেতে নিম্নোক্ত ধাপ অনুসরণ করুন।
আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুনঃ NU স্পেস DEG স্পেস আপনার রেজিস্ট্রেশন/রোল নম্বর এবং পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ এই নম্বরে।
উদাহরণঃ NU DEG 745241 send 16222

শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এই রুটিন সম্পর্কে যদি কোন মতামত অথবা প্রশ্ন থেকে থাকে। তাহলে, আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ও হ্যাঁ, আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি ভিজিট করতে পারেন। সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন।

অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ ও প্রতিকার

অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ ও প্রতিকার

অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ ও প্রতিকার

তরুণ ও তরুণী সহ ছোট বড় সকল বয়সের ছেলে মেয়েদের মাথা লক্ষ্য করলে দেখা যা অকালে চুল পাকতে শুরু করেছে। ফলে এসব তরুণ তরুণী যখন স্কুল, কলেজ, বন্ধু বান্ধবের মাঝে অনেক হাস্যর কারণ হয়ে যায়। তখন নিজেকে অনেক ছোট মনে হয়। তবে এই হাস্যর কারণ থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে জানতে হবে কিভাবে চুল পাকতে শুরু করেছে এবং এর প্রতিকার কি যাতে বাকি চুল আর কখনো না পাকে। এজন্য আপনাকে আমাদের পুরো পোস্ট পড়তে হবে মনোযোগের সাথে। কারণ এখানে এমন কিছু টিপস দিবু যাহাতে কোন টাকা খরচ হবে না, বরং আপনি বিনা খরচে ৯০% চুল পাকা কমাতে সাহায্য করেন।যদি আপনি আমার নিয়ম কানুন মানতে পারেন। এসব নিয়ম একদম সহজ।

চুল পাঁকার কারণ গুলো কি কি?

এখন জেনে নিই কী কারণে চুল পাঁকতে শুরু করে, তারপর জানিয়ে দেব এর প্রতিকার এবং সবশেষে থাকবে আমার কিছু গোপন ট্রিক্স যা আপনাকে ৯০% সহযোগীতা করবে ইনশাল্লাহ।

চুল পাকার কারণ সমূহঃ

১. ধুমপানঃ যারা কম বয়সে ধুমপান করে থাকে তাদের চুল অল্প বয়সেই পাকতে শুরু করে। এজন্য ধুমপান থেকে বিরত থাকলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে বাঁচতে পারবেন এবং চুলও কাল থাকবে।

২. মানসিকঃ যারা কারণে অকারণে সামান্য অথবা যেকোন কারণে সবসময় চিন্তা করেন। এরকম মানসিক চাপ সব সময় কাজ করলে অল্প বয়সেই চুল পাকে।

৩. ভেজাল যুক্ত খাবার খাওয়াঃ বাসি পঁচা খাবার অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার খাওয়া চুল পাকার কারণও বটে।

৪. পুষ্টির অভাবঃ নিয়মিত ভিটামিনযুক্ত খাবার না খেলে শরীরে পুষ্টির অভাব ঘটে। এজন্য চুলে গোঁড়ায় পুষ্টির অভাব ঘটে এজন্য চুল পাঁকে।

৫. ইলেকট্রিক ড্রাইয়ারঃ প্রাকৃতিক বাতাসে চুল শুকাতে অনেকেই বিব্রত বোধ করেন, তারা কম সময়ে চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রাইয়ার ব্যবহার করে থাকে। ফলে চুলের শক্তি আস্তে আস্তে কমে গিয়ে পাঁকা আরম্ভ করে। তাই হেয়ার ড্রাইয়ার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

৬. কেমিক্যালঃ চুলের ভাঁজ ও সৌন্দর্য ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন ধরণের কেমিকেল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর গুণমান সঠিক কিনা তা কখনো জানিনা। এর ফলে চুলের ক্ষতি হয় ফলে চুল পড়তে থাকে ও পাঁকা শুরু হয়।

৭. ঘুম কম হওয়াঃ অনেকেই নানা কারণে অকারণে অনেকদেরীতে ঘুমাতে যায়। নিয়মিত পরিমিত ঘুম না হবার কারণে চুল পাঁকে।

৮. জেনেটিক হরমোন সমস্যাঃ জেনেটিক সমস্যার কারণে খুব অল্প বয়সে চুল পাঁকে। আবার বংশগত কারণে উপরোক্ত কারণ ছাড়াই অল্প বয়সে চুল পাকে।

চুল পাঁকার রোধে করণীয় কী?

চুল পাঁকা রোধে করণীয় সমূহঃ

চুল পাঁকা রোধের অনেকে অনেক রকম ব্যাখ্যা আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন। তবে সেগুলো বিষয়াবলী জানানোর আগে আমার একান্তই কিছু নিয়ম জানাবো। আমি মনে করি এই নিয়মাবলী আপনি যদি যথাযথ ভাবে মানেন তাহলে উপকার পাবেন ইনশাল্লাহ।

প্রথমত আমি লক্ষ্য করেছি, অল্প বয়সে আমাদের বংশে কাদের চুল পেঁকেছে কিন্তু কেনো। তখন লক্ষ্য করেছি বেশির ভাগই বংশগত কারণ। আমাদের বংশের মানুষদের আগেই চুল পাঁকে। আরো লক্ষ্য করেছি, আমাদের অনেকই একটু মাথা ব্যাথা হলেই ছোটদের কাছ থেকে মাথার চুল টেনে নেই, আস্তে আস্তে এটা একসময় অভ্যাস্ত হয়ে যায়। মাথা ব্যাথায় চুল টেনে না নিলে আরাম যেন পাওয়াই যায় না। এ চুল টানার ফলে চুলের গোঁড়া নরম হয়ে যায় অথবা চুলের গোঁড়া নষ্ট হয়ে যায় অথবা চুলের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। ফলে বেশি চুল পাকে। আমি মনে করি আপনার যদি এই অভ্যাস থেকে থাকে এটা আস্তে এড়িয়ে চলুন, এভাবে বন্ধ করুন। তাহলে চুল আর অল্প বয়সে পাকবে না ইনশাল্লাহ।

দ্বিতীয়ত্বঃ যেকোন কারণে হোক মাথা দুএকটা পাঁকা চুল দেখা যায়, তখন এই চুল না তুলে ফেললে যের শান্তি পাওয়া যায় না। এই চুল তুলে ফেলার কারণে অন্য চুল গুলো ব্যাথা প্রাপ্ত হয়। তখন এই চুলের আশে পাশের চুল গুলো পর্যায়ক্রমে পাঁকা শুরু করে। এই ভাবে চলে পাকা চুল তুলে ফেলার অভিযান। এক সময় দেখা যায় পাঁকা চুলের সমারোহ। তাই মনে করি এরকম দু একটা পাকা চুল তুলে অন্য চুলের ক্ষতি না করাই ভাল।

উপরোক্ত আমার নিজের বিষয় গুলো এবং নিজস্ব সমাধান দিলাম। এরপর থাকছে বিশেষাজ্ঞ গণদের সমাধান।

১. নারিকেল তেল গরম করে সপ্তাহে দু তিন চুলে লাগলে চুলে পুষ্টিগুণ বেড়ে যায়।

২. আমলকি রাতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন, মাথায় মেসেজ করতে হবে, তাহলে চুলে গোঁড়ায় পুষ্টি যোগায়। এতে চুল পাঁকা রোধ করে।

৩. যদি চুল পাঁকা আরম্ভ করে, এরকম পর্যায়ে আপরি হাসনা হেনা ফুল, ডিমের কসুম ও টক দই একসঙ্গে মিশ্রিত করে প্যাক তৈরি করবেন। এরপর ভালভাবে মেসেস করুন। এতে চুলের গোঁড়ায় পুষ্টি হবে এবং সাদা ভাবটা দূর হতে থাকবে।

বন্ধুরা আশা করি, আমাদের টিপসটি আপনাদের ভাল লেগেছে। আপনাদের কেমন লেগেছে তা কমেন্টস করে জানিয়ে দিন। তাহলে আমরা অনেক উৎসাহিত হই। পোস্ট শেয়ার করে আপনাদের বন্ধুদের জানিয়ে দিন। সবার সুস্থতা কামনা করছি।

চুল পড়ার আদি কারণ ও প্রতিকার সমূহ

চুল পড়ার আদি কারণ ও প্রতিকার সমূহ

চুল পড়ার আদি কারণ ও প্রতিকার সমূহ

আমাদের সবার পরিচিত এবং কমন রোগ যেটা কমবেশি সবারই দেখা যায় তা হল চুল পড়া। তবে যাদের বয়স ৪০+ হয়ে গেছে, তাদের চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এখন বেশির ভাগই মানুষ দেখা যায় যাদের বয়স ১৮ না হতেই চুল পড়া শুরু হয়ে যায়। তখন এ বয়সের ছেলে মেয়েদের অনেক খারাপ লাগে। ফলে আস্তে আস্তে তারা যে টাক মাথার অধিকারী হচ্ছে এটা অনুধাবন করতে পেরে তারা ছুটে যাচ্ছে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে অথবা বিভিন্ন কিছু মেখে মেখে রোধ করার চেষ্টা করছেন। আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হলো এসব করে কী লাভ হয়েছে বলেন? যদি এসব করে কোন প্রতিকারই হতো তাহলে বিশ্বের অনেক নামীদামী লোকগণ কখনো চুল হারাতেন না। যেমনঃ নরেন্দ্র মোদী, ড্রনাল্ট ট্যাম্প, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আব্দুল মাল মোহিত ইত্যাদি।

চুল পড়া রোধ অর্থাৎ টাক থেকে সমাধান পেতে আপনাকে খুঁজতে হবে কেন চুল পড়ে এবং কি কি করলে চুল পড়া থেকে রেহাই পাবেন ইত্যাদি। এখানে আমি আগে আমার দেয়া সমাধানের কথা বলব! কেনো আমার মাথার চুল পড়েছে এবং কিভাবে বন্ধ করতে পেরেছি।

আমি প্রথমে যে প্রশ্ন টা নিজেকে করেছি, তা হলো আমার কোন সময়তে বেশি চুল পড়ল ঠিক তার একদিন আগ পর্যন্ত চিন্তা করেছি, আমি কি কি কাজ করেছি, গোসল কোথায় করেছি, কি শ্যাম্পু দিলাম, আগে কোন শ্যাম্পু দিতেছিলাম, কয়দিন পরপর দিতাম, তাছাড়া বৃষ্টিতে মাথা ভিজেছে কিনা ইত্যাদি।

চুল পড়ার কারণ সমূহঃ

যখন আমার মাথা থেকে প্রতিদিন ১০০-১৫০ টি চুল পড়ল, তখন আমি আরো চিন্তিত হয়ে গেলাম। কী করব? ডাক্তার দেখব নাকি? তখন বিশ্বের সেরা মানুষদের কথা মনে পড়ল। তাদের টাকা থাকতেও কেনো তারা টাকলু মাথা। তারপর আমি উপরোক্ত বিষয়াবলী চিন্তা করে বের করলাম যে কোন সময়গুলোতে আমার বেশি চুল পড়ে।

প্রথম কারণঃ যেটা অনুভব করেছি, যখন আমি অধিক পরিশ্রম অথবা অত্যান্ত ঘেমেছি, তখন মাথাও ঘেমেছে। আমরা সবাই জানি, ঘামের সাথে প্রচুর লবণ বের হয়। এজন্য সাথে সাথে মাথা না ধুলে এ ঘামের জন্য চুল পড়ত। এটা বন্ধ করেছি ফলে আমি ভাল ফল পেয়েছি।

দ্বিতীয় কারণঃ আমি দ্বিতীয়ত্ব লক্ষ্য করেছি যখন বৃষ্টিতে ভিজতাম তারপর অনেক চুল ঝরে পড়ত। হয়তো সবার বৃষ্টির পানি সহ্য হয়না তেমনি হয়তো আমারও। তাই সহজে বৃষ্টিতে ভিজিনা। বিশেষ করে মনে রাখবেন মেঘের প্রথম বৃষ্টিতে পানির সাথে এসিড থাকে। তাই কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়ে গেলে আর সমস্যা নাই।

তৃতীয়ত্বঃ মাঝে মাঝে শ্যাম্পু চেন্জ করতাম এবং ঘনঘন ব্যবহার করতাম। এজন্য খেয়াল করেছি আমার চুল বেশি ঝড়ে পড়তেছে। তারপর আমার চুলের সাথে সবচেয়ে বেশি যে শ্যাম্পু ম্যাচ করে সেটাই ব্যবহার করি। কিন্তু মনে রাখবেন, প্রতিদিন শ্যাম্প ব্যবহার করবেন না। এতে করে মাথার ত্বক নষ্ট হবার সম্ভাবনা তো আছেই, তার সাথে চুল বেশি পড়ার কারণ হতে পারে।

যাহোক, প্রিয় পাঠক উপরোক্ত সব গুলো কারণ এবং সমাধান একান্তই আমার নিজের সমস্যা ও সমাধান। তবে আমি আরো কিছু সমস্যার কারণ ও সমাধানের উপায় নিম্নাক্তে তুলে ধরলাম আশা করি মনোযোগের সহিত পাঠ করবেন এবং উপকৃত হইতে পারেন ইনশাল্লাহ।

অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ সমূহঃ

প্রিয় বন্ধুগণ, যদি আপনার অল্প বয়সে বেশি চুল পড়তে থাকে তবে এ ধরণের চুল পড়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বলা হয়ে থাকে। এটার লক্ষণ হচ্ছে আপনার কপাল দুপাশের রগের কাছ থেকে।আস্তে আস্তে মাথার সামনের দিকে এরপর ক্রমশ মাথার পিছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে টাক মাথায় পরিণত হয়। তবে অনেকেই ধারণা করে থাকেন যে, বংশগত কারণ, বয়ঃসন্ধিকাল অথবা থাইরয়েড গ্রন্থির শুকানোর জন্য হয়ে থাকে।

কি কি কারণে মাথার চুল পড়ে যায়?

এবার জেনে নিন যে গুলো কারণে আপনার নিয়মিত চুল ঝরে পড়ে। উপরের কারণ সমুহ ছিল আমার নিজের। তাই আমার সাথে আপনার চুল পড়ার কারণ এক মিল থাকতে নাও পারে। তাই নিচের কারণ সমূহ আপনার পড়ে নেওয়া উচিত। কারণ সমূহ হলঃ

১. অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন:- অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ। সেই সাথে নারীদের চুল পড়ার কারণও বটে। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই হরমোন সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে। যেসব পুরুষের শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেশি থাকে, সেসব নারী ও পুরুষের বেশি করে চুল পড়ে।

২. মাথার ত্বকের সোরিয়াসিস:- মাথায় যদি ছত্রাক সংক্রমণ বা খুশকি হলে চুল বেশি পড়ার অন্যতম কারণ। তবে এটার সমাধানের জন্য আপনি খুশকিনাশক বা ছত্রাকরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এতে যদি সঠিক ভাবে উপকৃত না হন তবে তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন। সংক্রমণ ভালো হয়ে গেলে তখন আর খুশকি নাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। তবে মাথার ত্বকের সোরিয়াসিস ভাল হলে চুল আবার গজায়।

৩.  পুষ্টির অভাব:- শরীরের যদি পুষ্টির ঘাটতি পড়ে তবে এর ওপরও চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। দৈনিক খাবার তালিকায় শর্করা, আমিষ, স্নেহ, চর্বি,  খনিজ ও ভিটামিন পরিমিত পরিমাণে না খেলে চুলের পুষ্টি ঘাটতি দেখা যায় তখন চুল পড়ে যায়। তাছাড়া দেহে দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো একটি উপাদানের অভাবে থাকলে চুল পড়ে যায়।

চুল পড়া কমানোর উপায় সমূহঃ আমি মনে করি, উপরোক্ত কারণ সমূহি এর চিকিৎসা করে লাভ নেই। এতে আপনার টাকা নষ্ট হবে মাত্র। তাই আমি যে সমাধান দিয়েছি তা পালন করলে ইনশাল্লাহ ভাল হবে। এই পোস্টটি সম্পর্কে আপনার কোন উপদেশ অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই মতামত দিবেন।