পিঠা উৎসব এবং বাংলাদেশের পিঠা

পিঠা বা কেক কী? বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকার পিঠাঃ

পিঠা বা পিঠে বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী লোভ নিয় খাবারের মধ্যে অন্যতম । পিঠা বা পিঠে তৈরি হয় আটা বা চালের গুঁড়া, ময়দা অথবা অন্য শষ্য জাতীয় দানা বা তার উপাদান দিয়ে যা বাঙ্গালির নিজস্ব আদিম ঐতিহ্য কে বহন করে আসছে। তবে প্রকৃতি ও অঞ্চলভেদে পিঠার বৈচিত্রতা লক্ষ করা যায়। গ্রাম দেশে সাধারণত নতুন ধান কাঁটার পর পিঠা পুলির আয়োজন করা হয়। সব থেকে শীত মৌসুমে বেশি পিঠা তৈরি করা হয়। সাধারণত শীতের সময় অর্থাৎ পৌষ পার্বন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে পালিত একটি লোক উৎসব। যা পৌষ সংক্রান্তিতে পালন করা হয় এই দিনে রকমারি পিঠা প্রস্তুত করে। পিঠা সাধারনত মিষ্টি স্বাদ যুক্ত হয়ে থাকে তবে- জাতিভেদে টক , ঝাল বা অন্য যে কোন স্বাদ যুক্ত হয়ে থাকে।

পিঠা ও প্রকৃতিঃ

গ্রামের আকাঁবাকা মেঠো পথে খেঁজুরের রস, সাদা কুঁয়াশার ঘোমটা, ভোরের নতুন রবীর হালকা আভা আর সেই সাথে মায়ের হাতে বানানো নতুন ধানের চালের গুঁড়ার তৈরি পিঠা এ যেন সত্যি এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য। তবে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পিঠার তারতম্যের কারণে বাংলার ভিন্ন ভিন্ন পিঠা ভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আর সেই সাথে শীতের আনাগোনায় পিঠের আধিক্য অনেকাংশেই বেড়ে যায়। তাই অনেকেই শীতকে পিঠার মৌসুম ও বলে থাকে।

পিঠাঘর কী?

শহুরে কর্মব্যস্তময় মানুষের পিঠার চাহিদা মেটাতে তৈরি হয়েছে পিঠাঘর। তার কারন শহর অঞ্চলে দিন দিন বেড়েই চলছে পিঠার জনপ্রিয়তা। শহরে ৮০ শতাংশ মানুষই গ্রাম থেকে ভিড় জমিয়েছে কর্মের জন্য শহরে। তাই হালকা কুয়াশার চাদর ও হিমেল হাওয়া দেখলেই পিঠার প্রতি লোভ হয়। তাই এই লোভ কে সংবরণ করতে শহরে বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট থেকে শুরু করে অলিতে গলিতে গরে ওঠে অসংখ্য পিঠার দোকান। কর্ম ব্যস্ততাময় জীবনে নিজ হাতে পিঠা বানানো ভার ভেবেই পিঠা ক্রেতার ভরসা এখন এসব ভ্রামমাণ পিঠা দোকান বা পিঠে ঘরের উপর।

সংস্কৃতি অঙ্গনে পিঠাঃ

বাঙ্গালীর আদী ইতিহাস এবং ঐতিহ্যে পালন করে আসতেছেন প্রাচীনকাল ধরেই, তাই নবান্ন পিঠা-পুলির গুরুত্ব অপরিসীম। এটা বিাঙ্গালীর সংস্কৃতির লোকজ এবং নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। আমরা জানি সাধারণত, শীতকালেই পিঠার সমারোহটা এবং পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায় অনেক বেশি। পিঠা বা কেক বাঙ্গালরি মুখরোচর এবং আদরীণ ও অথিতি আপ্পায়ন খাবার। ফলে এই পিঠার দাওয়াতে আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হতে থাকে। বিভিন্ন উপাদান এবং উপায়ে পিঠা তৈরি করা যায়। আমাদের দেশে একশ পঞ্চাশেরও বেশী রকমের পিঠা থাকলেও আমাদের অঞ্চল ভেদে ত্রিশ রকমের পিঠার প্রচলন বেশি আছে। আমাদের দেশে অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন ধরণের পিঠা প্রচলন থাকলেও চিতই পিঠা, nokshi pitha, ডিম চিতই পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, তেল পিঠা, ভাঁপা পিঠা, পাতা পিঠা, pithe puli, নকশি পিঠা ইত্যাদি আরো শতরকমের পিঠা।

পিঠা উৎসব কী এবং কেন পালন করা হয়?

আমাদের যান্ত্রিক এই নগর জীবনে ভুলতে বসেছেন বারো মাসের তেরো পার্বণের কথা ।এই বাংলাদেশের সংস্কৃতির অনন্য ঐতিহ্য হচ্ছে পিঠার স্বাদ। এই পিঠার স্বাদ ও কীভাবে তৈরি করতে হয়, তা আস্তে মানুষ ভুলতে শুরু করেছে। কারণ, মানুষ কাজের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েছে। তাই আমাদের গ্রামবাংলার এই চিরন্তন সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আয়োজন করা হয়ে থাকে ‘জাতীয় পিঠা উৎসব । এ পিঠা উৎসব পালন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে জাতীয় পিঠা উৎসব পরিষদ। আর এ উদযাপন পরিষদ এবার আয়োজন করেছিলেন ‘জাতীয় পিঠা উৎসব-১৪২২। এ পিঠা উৎসবে ছিল মোট ৩৩টি স্টল। এসব স্টলে ১৬৮ ধরনের পিঠা ছিল।

প্রিয় ভিজিটর, আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে? আপনাদের মনে যদি প্রশ্ন থাকে এ আর্টিকেল সম্পর্কে। তাহলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল enzymerony সাবস্ক্রাইব করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *