তামিমের হাতেই কুমিল্লার জয় পেল | বিপিএল ২০১৯

তামিমের ব্যাটিংএ জয় পেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস

বিপিএল সেশন ৬-এ শিরোপা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস জিতে নিল। ডায়নামাইটসকে তারা মাত্র ১৭ রানে হারিয়েছেন। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেয় সাকিবাল হাসান, ফলে প্রথমে ব্যাটিং করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ১৯৯ রান তুললেও ঢাকা থেমে যায় ১৮২ রানে এবং তামিম ইকবাল করেন ১৪১ রান। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস এর পক্ষে ওয়াহাব রিয়াজ নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও থিসারা পেরেরা তুলে নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

tamim Iqbal 2019 bpl fnal

ইনিংসের ১৩তম ওভারে রনি তালুকদার ও কাইরন পোলার্ডের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝিতে মনে হয় ম্যাচের মোর ঘুরিয়েছিল। হয়তো অনেকেই বাবছেন, উপুল থারাঙ্গার ফেরা? ঢাকা ডায়নামাইটসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হল যে সুনীল নারাইন রান আউট হওয়া। কিন্তু সেটা সফলভাবে সামলে তুলেছিলেন রনি তালুকদার এবং উপুল থারাঙ্গা। রনি তালুকদার এবং উপুল থারাঙ্গা তারা ৯ ওভারে ১০২ রানের জুটি করে ঢাকাকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের পথেই। কিন্তু, ১২-তম ওভারেই নিজেদের জয়ের পথে ম্যাচ ঘুরিয়েছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।

রনি তালুকদার এবং উপুল থারাঙ্গা আউট হওয়ার ক্ষতি সামলানোর জন্য অনেক অস্ত্র থাকলেও তারা আজ জ্বলে উঠতে পারেনি। আজ কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেলরা এবং রনি-থারাঙ্গারা কেউই ম্যাচ হাতে নিতে পারেনি। এর ফলে ঢাকা ডায়নামাইটস পরপর নয়টি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৮২ রান করে কুমিল্লার কাছে ১৭ রানে হেরে যায়।

রনি তালুকদার এবং উপুল থারাঙ্গা অত্যান্ত ঝঁড় গতিতে রান তুলতেছিলেন

তখন কুমিল্লার দরকার ছিল ভালো একটি ওভার, ক্যাচ আউট কিংবা রান আউটের মত উত্তম সময়। ইনিংসের ১২-তম ওভারটি ছিল তেমনি, যে ওভারটি করেছিলেন দলের পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার ওয়াহাব রিয়াজ। ফলে আমরা এককথায় বলতে পারি, ঢাকা ডায়নামাইটসের সর্বনাশটা শুরু হয় তখন থেকেই। এই ওভারে রান এসেছিল মাএ ১টি এবং তামিম ইকবাল প্রায় ১৫ থেকে ২০ গজ দৌড়ে দূর্দান্ত একটি অসাধারণ ক্যাচ। যে ক্যাচটি ছিল অনেক কঠিন। ওভারের বাকি বল গুলো সফলভাবে করেন ওয়াহাব রিয়াজ।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস বোল করেছিলেন অত্যান্ত দুর্দান্ত। আজ সাইফউদ্দিন এবং মেহেদী হাসানরা সবাই বেশি রান দিয়েছিলেন। তবে সাইেউদ্দিন ৪ ওভার করে ৩৮ রান দিয়েছেন এবং ২ উইকেট নিয়েছেন। এদিকে ওয়াহাব রিয়াজও রেহাই পাননি থারাঙ্গা ও রনি তালুকদারের কাছ থেকে। ওয়াহাব রিয়াজ প্রথম ওভারেই ১৫ রান দিয়ে অবশ্য ভালভাবে ফিরে ছিলেন, এক কথায় সেটি ছিল অত্যান্ত দুর্দান্ত। ওয়াহাব রিয়াজ পরের ৩টি ওভার বোলিং করে ১৩ রান দিয়েছেন এবং ৩ উইকেট পেয়েছেন। থিসারা পেরেরাও ৪ ওভার করে ৩৫ রান দিয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন।

আজ যদি তামিম ইকবাল ১৪১ রান করে হেরে যেতেন, তাহলে হয়তো তামিম ইকবালের আফসোসের অন্ত থাকত না, এমন কি তার ভক্তদেরও। যাহোক, শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতে নিয়েছেন তামিমরা। বিপিএলের ষষ্ঠ আসর-এ দারুণ একটি চিত্রনাট্যের উপহার এবং দেশি তারকারদের দারুণ পারফরম্যান্সে বিপিএল এর পর্দা উঠল।