চুল পড়ার আদি কারণ ও প্রতিকার সমূহ

চুল পড়ার আদি কারণ ও প্রতিকার সমূহ

আমাদের সবার পরিচিত এবং কমন রোগ যেটা কমবেশি সবারই দেখা যায় তা হল চুল পড়া। তবে যাদের বয়স ৪০+ হয়ে গেছে, তাদের চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এখন বেশির ভাগই মানুষ দেখা যায় যাদের বয়স ১৮ না হতেই চুল পড়া শুরু হয়ে যায়। তখন এ বয়সের ছেলে মেয়েদের অনেক খারাপ লাগে। ফলে আস্তে আস্তে তারা যে টাক মাথার অধিকারী হচ্ছে এটা অনুধাবন করতে পেরে তারা ছুটে যাচ্ছে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে অথবা বিভিন্ন কিছু মেখে মেখে রোধ করার চেষ্টা করছেন। আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হলো এসব করে কী লাভ হয়েছে বলেন? যদি এসব করে কোন প্রতিকারই হতো তাহলে বিশ্বের অনেক নামীদামী লোকগণ কখনো চুল হারাতেন না। যেমনঃ নরেন্দ্র মোদী, ড্রনাল্ট ট্যাম্প, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আব্দুল মাল মোহিত ইত্যাদি।

চুল পড়া রোধ অর্থাৎ টাক থেকে সমাধান পেতে আপনাকে খুঁজতে হবে কেন চুল পড়ে এবং কি কি করলে চুল পড়া থেকে রেহাই পাবেন ইত্যাদি। এখানে আমি আগে আমার দেয়া সমাধানের কথা বলব! কেনো আমার মাথার চুল পড়েছে এবং কিভাবে বন্ধ করতে পেরেছি।

আমি প্রথমে যে প্রশ্ন টা নিজেকে করেছি, তা হলো আমার কোন সময়তে বেশি চুল পড়ল ঠিক তার একদিন আগ পর্যন্ত চিন্তা করেছি, আমি কি কি কাজ করেছি, গোসল কোথায় করেছি, কি শ্যাম্পু দিলাম, আগে কোন শ্যাম্পু দিতেছিলাম, কয়দিন পরপর দিতাম, তাছাড়া বৃষ্টিতে মাথা ভিজেছে কিনা ইত্যাদি।

চুল পড়ার কারণ সমূহঃ

যখন আমার মাথা থেকে প্রতিদিন ১০০-১৫০ টি চুল পড়ল, তখন আমি আরো চিন্তিত হয়ে গেলাম। কী করব? ডাক্তার দেখব নাকি? তখন বিশ্বের সেরা মানুষদের কথা মনে পড়ল। তাদের টাকা থাকতেও কেনো তারা টাকলু মাথা। তারপর আমি উপরোক্ত বিষয়াবলী চিন্তা করে বের করলাম যে কোন সময়গুলোতে আমার বেশি চুল পড়ে।

প্রথম কারণঃ যেটা অনুভব করেছি, যখন আমি অধিক পরিশ্রম অথবা অত্যান্ত ঘেমেছি, তখন মাথাও ঘেমেছে। আমরা সবাই জানি, ঘামের সাথে প্রচুর লবণ বের হয়। এজন্য সাথে সাথে মাথা না ধুলে এ ঘামের জন্য চুল পড়ত। এটা বন্ধ করেছি ফলে আমি ভাল ফল পেয়েছি।

দ্বিতীয় কারণঃ আমি দ্বিতীয়ত্ব লক্ষ্য করেছি যখন বৃষ্টিতে ভিজতাম তারপর অনেক চুল ঝরে পড়ত। হয়তো সবার বৃষ্টির পানি সহ্য হয়না তেমনি হয়তো আমারও। তাই সহজে বৃষ্টিতে ভিজিনা। বিশেষ করে মনে রাখবেন মেঘের প্রথম বৃষ্টিতে পানির সাথে এসিড থাকে। তাই কিছুক্ষণ বৃষ্টি হয়ে গেলে আর সমস্যা নাই।

তৃতীয়ত্বঃ মাঝে মাঝে শ্যাম্পু চেন্জ করতাম এবং ঘনঘন ব্যবহার করতাম। এজন্য খেয়াল করেছি আমার চুল বেশি ঝড়ে পড়তেছে। তারপর আমার চুলের সাথে সবচেয়ে বেশি যে শ্যাম্পু ম্যাচ করে সেটাই ব্যবহার করি। কিন্তু মনে রাখবেন, প্রতিদিন শ্যাম্প ব্যবহার করবেন না। এতে করে মাথার ত্বক নষ্ট হবার সম্ভাবনা তো আছেই, তার সাথে চুল বেশি পড়ার কারণ হতে পারে।

যাহোক, প্রিয় পাঠক উপরোক্ত সব গুলো কারণ এবং সমাধান একান্তই আমার নিজের সমস্যা ও সমাধান। তবে আমি আরো কিছু সমস্যার কারণ ও সমাধানের উপায় নিম্নাক্তে তুলে ধরলাম আশা করি মনোযোগের সহিত পাঠ করবেন এবং উপকৃত হইতে পারেন ইনশাল্লাহ।

অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ সমূহঃ

প্রিয় বন্ধুগণ, যদি আপনার অল্প বয়সে বেশি চুল পড়তে থাকে তবে এ ধরণের চুল পড়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বলা হয়ে থাকে। এটার লক্ষণ হচ্ছে আপনার কপাল দুপাশের রগের কাছ থেকে।আস্তে আস্তে মাথার সামনের দিকে এরপর ক্রমশ মাথার পিছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে টাক মাথায় পরিণত হয়। তবে অনেকেই ধারণা করে থাকেন যে, বংশগত কারণ, বয়ঃসন্ধিকাল অথবা থাইরয়েড গ্রন্থির শুকানোর জন্য হয়ে থাকে।

কি কি কারণে মাথার চুল পড়ে যায়?

এবার জেনে নিন যে গুলো কারণে আপনার নিয়মিত চুল ঝরে পড়ে। উপরের কারণ সমুহ ছিল আমার নিজের। তাই আমার সাথে আপনার চুল পড়ার কারণ এক মিল থাকতে নাও পারে। তাই নিচের কারণ সমূহ আপনার পড়ে নেওয়া উচিত। কারণ সমূহ হলঃ

১. অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন:- অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ। সেই সাথে নারীদের চুল পড়ার কারণও বটে। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই হরমোন সাধারণত নারীদের চেয়ে পুরুষের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে। যেসব পুরুষের শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেশি থাকে, সেসব নারী ও পুরুষের বেশি করে চুল পড়ে।

২. মাথার ত্বকের সোরিয়াসিস:- মাথায় যদি ছত্রাক সংক্রমণ বা খুশকি হলে চুল বেশি পড়ার অন্যতম কারণ। তবে এটার সমাধানের জন্য আপনি খুশকিনাশক বা ছত্রাকরোধী শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এতে যদি সঠিক ভাবে উপকৃত না হন তবে তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন। সংক্রমণ ভালো হয়ে গেলে তখন আর খুশকি নাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। তবে মাথার ত্বকের সোরিয়াসিস ভাল হলে চুল আবার গজায়।

৩.  পুষ্টির অভাব:- শরীরের যদি পুষ্টির ঘাটতি পড়ে তবে এর ওপরও চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। দৈনিক খাবার তালিকায় শর্করা, আমিষ, স্নেহ, চর্বি,  খনিজ ও ভিটামিন পরিমিত পরিমাণে না খেলে চুলের পুষ্টি ঘাটতি দেখা যায় তখন চুল পড়ে যায়। তাছাড়া দেহে দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো একটি উপাদানের অভাবে থাকলে চুল পড়ে যায়।

চুল পড়া কমানোর উপায় সমূহঃ আমি মনে করি, উপরোক্ত কারণ সমূহি এর চিকিৎসা করে লাভ নেই। এতে আপনার টাকা নষ্ট হবে মাত্র। তাই আমি যে সমাধান দিয়েছি তা পালন করলে ইনশাল্লাহ ভাল হবে। এই পোস্টটি সম্পর্কে আপনার কোন উপদেশ অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই মতামত দিবেন।

Thanks,

Study Based

আরো পড়ুনঃ

অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ ও প্রতিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *