Sharing is caring!

গ্রহাণুবলয় কী? কিভাবে গ্রহাণুবলায় সৃষ্টি হয়?

আমাদের এই সৌরজগৎ অনেক রহস্যে ভরা। সৌরজগতের এক বিচিত্র সদস্য হচ্ছে গ্রহাণু। সূর্য থেকে মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে  2.2 এবং 3.3 A.U. দূরত্বের মাঝে, একটি বলয় সৃষ্টি করে হাজার হাজার বড় ছোট পাথরের খন্ড সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলতে থাকে। ইহাই গ্রহাণু (Asteroid)। এসব গ্রহাণুর বলয়টিকে বলা হয় গ্রহাণুবলয় (Asteroid Belt)। বলয়টির বেধ প্রায় 10 কোটি কিলােমিটার এবং প্রস্থ প্রায় 20 কোটি কিলােমিটার। বলয়টি এতটাই বিস্তৃত যে গ্রহাণুগুলির দূরত্ব সূর্য থেকে কোটি কোটি কিলােমিটার।

এই গ্রহাণু গুলি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে, এই আবিস্কারের ইতিহাসটি অতি বড় চমৎকার। শুক্র, বুধ, মঙ্গল, শনি ও বৃহস্পতি এই পাঁচটি গ্রহের কথা আদিকাল থেকেই মানুষের জানা ছিল। আমাদের এই পৃথিবীর মানুষ গুলো কখনোই বিশ্বাস করতে চাইতেন না যে এই পৃথিবীও একটি গ্রহ। পৃথিবী গ্রহ হিসাবে স্বীকৃতি পায় সপ্তদশ শতকের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে। ইউরেনাস গ্রহটি আবিস্কৃত হয় 1781 খ্রিষ্টাব্দে। কিন্তু, এই গ্রহটি আবিষ্কারের আগে পর্যন্ত বুধ থেকে শনি – এই ছয়টি গ্রহের কথাই মানুষের জানা ছিল। সূর্য থেকে গ্রহ গুলির দূরত্ব কত এর মাপ গুলো জানা ছিল। এখানে উল্লেখ্য, সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব চৌদ্দ কোটি ছিয়ানব্বই লক্ষ কিলােমিটার, মঙ্গলের দূরত্ব বাইশ কোটি ঊনআশি লক্ষ কিলােমিটার, বৃহস্পতির দূরত্ব সতাত্তর কোটি তিরাশি লক্ষ কিলােমিটার।

মূল্যবান ধাতু ও সম্পদে ভরপুর গ্রহাণুবলায়

এই পৃথিবীর ভূমি নয় এবার সম্পদের খোঁজে ছুটে চলছেন বিজ্ঞানীরা মহাকাশে। তবে শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য যে , বিজ্ঞানীরা মূল্যবান সম্পদের খোঁজে ছুটছেন মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহে। ধনী হওয়ার সহজ উপায় বের করছে নাসা । মঙ্গল ও বৃহস্পতি এই দুই গ্রহের মধ্যে রয়েছে একটি গ্রহাণুবলায় যা, ভর্তি রয়েছে সোনা , লোহা , ও নিকলের মতো মূল্যবান ধাতু যার মূল্য প্রায় ৭শ কুইন্টাল অন মার্কিন ডলার । অর্থাৎ ৭ এর পর ২০ টা শুন্য । হিসেবের নিরক্ষতা এটাই যে , পৃথিবীর ৭ বিলিয়ন মানুষ প্রত্যেকেই আয় করে নিতে পারে ১০০ বিলিয়ন মার্কিণ ডলার যার ফলেই সকলেই হয়ে উঠতে পারবে কোটিপতি ।

খনন অভিযানঃ

এ খনন অভিযানের দায়িত্বে আছেন উপ স্পেস ইন্ড্রাস্ট্রিজ। যে সংস্থার কাজই মহাকাশে এই ধরনের খনিজ সম্পদে পরিপুর্ণ গ্রহাণুবলায় এর কাজ অনুসন্ধান করা এবং পরে সেখানে খনন কাজ চালানো । ডি. এস. আই ক্যালোর্ফোনিয়া নাসার বিজনেস পার্কে অবস্থিত চুক্তির ভিক্তিতে কাজ করে নাসার সঙ্গে । এছাড়া এর আগে নাসার ডন জাপান এরো স্পেস এজেন্সি এর প্রসেট্রা খনিজ পদার্থের ভরপুর একাধিক গ্রহণুবলায় এর অভিযান চালিয়েছেন । কিন্তু এই সবটুকু অভিযানের ব্যায় ‍নির্বাহ হয়েছিল সরকারি তহবিল থেকে । এদের থেকে প্রযুক্তি এবং কৌশলের প্রয়োগ একটু হলেও আলাদা ডি-এস আই ।

তাদের গ্রহাণু অভিযানের সময় ও অর্থ দুই- বাড়ছে স্ট্রিরয়েট মাইনিং অর্থাৎ গ্রহাণুবলায়ে খনন অভিযান অনেকটাই সাশ্রয় হয়েছে এই ডি, এস, আই এর কল্যাণে । বর্তমানে চলছে সেরা লোকেশন বাছাই এর কাজ স্থান নির্বাচন হয়ে গেলেই চলবে বিশেষ রোবটিক মহাকাশ অভিযান শুরু করবে সম্পদ আরোহনের কাজ । রয়াল এস্ট্রোনোমিক্যাল  সোসাইটির প্রেসিডেন্ট জার্নীকির মতে প্রথমে এই গ্রহাণুবলায় খনন অভিযান কল্পোবিজ্ঞান হলেও আজ তা পরিক্ষিত সত্য । আগামি দশকের মধেই হবে অভিযান । এবার ভূগর্ভ ছেরে মহাকাশে খনিজের খোঁজ চালাবে মানুষ । ক্রমশ বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও বিপুল চাহিদা মেটাতে মানবজাতির ভরসার অবকাশ এখন মহাকাশ।

প্রিয় ভিজিটর, এই পোস্টটি আপনাদের কেমন লেগেছে? এই আর্টিকেল সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত থাকলে, তা অব্যশই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনারা পরবর্তীতে কী ধরণের পোস্ট চান, তাও জানাবেন। আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি যদি এখনও সাবস্ক্রাইব করে না থাকেন, তাহলে অব্যশই সাবস্ক্রাইব করবেন।

2 Comments

  1. Nahid

    what is asteroi?

    Reply
  2. arif

    This is a very nice post.

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Sharing is caring!

shares